পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর இ? যিশুর সঙ্গে শক্তির সঙ্গে ভেদ করে দেওয়া ঠিক নয়, অর্ধনারীশ্বর ঘূর্তিতে দুজনকেই সমান মানবার মন্ত্র আছে। অর্থাৎ, এক দল মদ খাচ্ছেন রাজাসনে ব’লে, আর-এক দল পুলপিটে চড়ে । আর আমরাও বলছি, শিবকে মানব না। শিবকে মান কাপুরুষতা । আমরা চণ্ডীর মঙ্গল গাইতে বসেছি। কিন্তু সে মঙ্গলগান স্বপ্নলব্ধ। ক্ষুধা-ভয়-পরিশ্রমের স্বপ্ন। জয়ীর চণ্ডীপূজায় আর পরাজিতের চণ্ডীগানে এই তফাত । স্বপ্নেতেই যে আমাদের চণ্ডীগানের আদি এবং স্বপ্নেতেই যে তার অন্ত তার প্রমাণ কী ? ঐ দেখোন ব্যাধের দশা, তার স্ত্রী ফুল্পরার বারমাস্তা একবার শোনো । কিন্তু, হল কী ! হঠাৎ খামখেয়ালি শক্তি বিনা কারণে তাকে এমন-একটা আঙটি দিলেন যে, ঘরে আর টাকা ধরে না। কলিঙ্গরাজের সঙ্গে এই সামান্ত বাধ যখন লড়াই করল, তখন খামক স্বয়ং হনুমান এসে তার পক্ষ নিয়ে কলিঙ্গের সৈন্তকে কিলিয়ে লাথিয়ে একাকার করে দিলে। একেই বলে শক্তির স্বপ্ন, ক্ষুধা এবং ভয়ের বরপুত্র। হঠাৎ একটা কিছু হবে । তাই সেই অতিঅদ্ভুত হঠাতের আশায় আমরা দলে দলে উচ্চৈঃস্বরে ‘মা মা’ ক’রে চণ্ডীগান করতে লেগে গেছি। সেই চণ্ডী স্তায় অন্তায় মানে না ; সুবিধার খাতিরে সত্যমিথ্যায় সে ভেদ করে না ; সে যেন-তেন প্রকারে ছোটোকে বড়ো, দরিদ্রকে ধনী, অশক্তকে শক্তিমান করে দেয়। তার জন্তে যোগ্য হবার দরকার নেই, অস্তরের দারিদ্র্য দূর করবার প্রয়োজন হবে না : যেখানে যা যেমনভাবে আছে আলস্তভরে সেখানে তাকে তেমনি ভাবেই রাখা চলবে । কেবল করজোড়ে তারস্বরে বলতে হবে— মা, মা, মা ! যখন মোগলপাঠানের বস্তা দেশের উপর ভেঙে পড়ল, তখন সংসারের যে বাহ রূপ মামুষ প্রবল করে দেখতে পেলে সেটা শক্তিরই > 8br