পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতায়নিকের পত্র চিরস্থায়ী করে রেখেছি সেই অন্তায় যখন পলিটিক্সের ক্ষেত্রে অন্তের হাত দিয়ে আমাদের উপর ফিরে আসে, তখন সেটার সম্বন্ধে সর্বতোভাবে আপত্তি করবার জোর আমাদের কোথায় ? জোর করি সেই বিদেশীরই ধর্মবুদ্ধির দোহাই দিয়ে । সে দোহাইয়ে কি লজ্জা বেড়ে ওঠে না । এ কথা বলতে কি মাথা হেঁট হয়ে যায় না যে 'সমাজে আমাদের আদর্শকে আমরা ছোটো করে রাখব, আর পলিটিক্সে তোমাদের আদর্শকে তোমরা উচু করে রাখো' ? “আমরা দাসত্বের সমস্ত বিধি সমাজের মধ্যে বিচিত্র আকারে প্রবল করে রাখব আর তোমরা তোমাদের ঔদার্যের দ্বারা প্রভূত্বের সমান অধিকার আমাদের হাতে নিজে তুলে দেবে ; যেখানে আমাদের এলেকা সেখানে ধর্মের নামে আমরা অতি কঠোর কৃপণতা করব, কিন্তু যেখানে তোমাদের এলেকা সেখানে সেই ধর্মের দোহাই দিয়ে অপর্যাপ্ত বদান্ততার জন্তে তোমাদের কাছে দরবার করতে থাকব এমন কথা বলি কোন মুখে ? আর যদি আমাদের দরবার মঞ্জুর হয় ? যদি আমরা আমাদের দেশের লোককে প্রত্যহ অপমান করতে কুষ্ঠিত ন নই, অথচ বিদেশের লোক এসে আপন ধর্মবুদ্ধিতে সেই অপমানিতদের সম্মানিত করে, তা হলে ভিতরে বাছিরেই কি আমাদের পরাভব সম্পূর্ণ হয় না ? আজকের দিনে যে কারণে হোক দুঃখ এবং অপমানের বেদন নিরতিশয় প্রবল হয়ে উঠেছে ; এই উপলক্ষে আমাদের মনে একটা কথা আশা করবার আছে, সেটা হচ্ছে এই যে, ধর্মবুদ্ধিতে যখন অন্ত পক্ষের পরাভব হচ্ছে তখন সেইখানে আমরা এদের উপরে উঠৰ । তা হলে এদের হাতের আঘাতে আমাদের গৌরব-হানি করবে না বরং বাড়াবে । কিন্তু সেখানেও কি আমরা বলব, ‘ধর্মবুদ্ধিতে তোমরা আমাদের চেয়ে বড়ো হয়ে থাকে, নিজেদের সম্বন্ধে আমরা যে রকম ব্যবহার করবার LL O