পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর আশা করি নে আমাদের সম্বন্ধে তোমরা সেই রকম ব্যবহারই করো’ ? অর্থাৎ, ‘চিরদিনই নিজের ব্যবস্থায় আমরা নিজেদের খাটো করে রাখি, আর চিরদিনই তোমরা নিজ গুণে আমাদের বড়ো করে তোলো।’ সমস্ত বরাতই অন্তের উপরে, আর নিজের উপরে একটুও নয় ? এত অশ্রদ্ধা নিজেকে, আর এতই শ্রদ্ধা অন্তকে ? বাহুবলগত অধমতার চেয়ে এই ধর্মবুদ্ধিগত অধমত কি আরো বেশি নিকৃষ্ট নয় ? অল্প কাল হল একটা আলোচনা আমি স্বকৰ্ণে শুনেছি, তার সিদ্ধাস্ত এই যে, পরস্পরের মধ্যে পাকা দেওয়ালের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও এক চালের নীচে হিন্দু মুসলমান আহার করতে পারবে না, এমন কি সেই আহারে হিন্দু-মুসলমানের নিষিদ্ধ কোনো আহার্য যদি নাও থাকে। যারা এ কথা বলতে কিছুমাত্র সংকোচ বোধ করেন না, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের সময় তারাই সন্দেহ করেন যে বিদেশী কর্তৃপক্ষেরা এই বিরোধ ঘটাবার মূলে। এই সন্দেহ যখন করেন তখন ধর্মবিচারে তারা বিদেশীকে দণ্ডনীয় মনে করেন । এর একমাত্র কারণ, ধর্মের দাবি নিজের উপরে র্তাদের যতটা বিদেশীর উপরে তার চেয়ে অনেক বেশি । স্বদেশে মানুষে মামুষে ব্যবধানকে আমরা দু:সহরূপে পাকা করে রাখব সেইটেই ধর্ম, কিন্তু বিদেশী সেই ব্যবধানকে কোনো কারণেই কোনো মতেই নিজের ব্যবহারে লাগালে সেটা অধৰ্ম । আত্মপক্ষে দুর্বলতাকে স্বষ্টি করব ধর্মের নামে, বিরুদ্ধপক্ষে সেই দুর্বলতাকে ব্যবহার করলেই সেটাকে অন্তায় বলব । যদি জিজ্ঞাসা করা যায়, পাকা দেওয়ালের অপর পারে যেখানে মুসলমান খাচ্ছে দেওয়ালের এ পারে সেখানে হিন্দু কেন খেতে পারে না, তা হলে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই আবখ্যক হবে না। হিন্দুর পক্ষে এ প্রশ্নে বুদ্ধি খাটানো নিষেধ এবং সেই নিষেধটা বুদ্ধিমান জীবের পক্ষে কত অদ্ভূত ও লজ্জাকর তা মনে উদয় হবার শক্তি পর্যন্ত চলে গেছে। > & 8