পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র সমাজের বিধানে নিজের বারো-আনা ব্যবহারের কোনোপ্রকার সংগত কারণ নির্দেশ করতে আমরা বাধ্য নই, যেমন বাধ্য নয় গাছপালা কীটপতঙ্গ পশুপক্ষী। পলিটিক্সে বিদেশীর সঙ্গে কারবারে আমরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে শিখেছি, সে ক্ষেত্রে সকল রকম বিধিবিধানের একটা বুদ্ধিগত জবাবদিহি আছে ব'লে মানতে অভ্যাস করছি ; কিন্তু সমাজে পরস্পরের সঙ্গে ব্যবহার, যার উপরে পরস্পরের গুরুতর সুখদুঃখ শুভাশুভ প্রত্যহ নির্ভর করে, সে সম্বন্ধে বুদ্ধির কোনো কৈফিয়ত, নেওয় চলে, এ কথা আমরা ভাবতেও একেবারে ভুলে গেছি। এমনি ক’রে যে দেশে ধর্মবুদ্ধিতে এবং কর্মবুদ্ধিতে মামুষ নিজেকে দাসামুদাস করে রেখেছে সে দেশে কর্তৃত্বের অধিকার চাইবার সত্যকার জোর মামুষের নিজের মধ্যে থাকতেই পারে না । সে দেশে এই-সকল অধিকারের জন্তে পরের বদান্ততার উপরে নির্ভর করতে হয় । কিন্তু আমি পূর্বেই বলেছি, মানুষ যেখানে নিজেকে নিজে অভ্যস্ত ছোটে এবং অপমানিত ক’রে রাখে সেখানে তার কোনো দাবি স্বভাবত কারও মনে গিয়ে পৌছয় না। সেইজন্তে তাদের সঙ্গে যেসকল প্রবলের ব্যবহার চলে সেই প্রবলদের প্রতিদিন দুৰ্গতি ঘটতে থাকে । মামুষের সঙ্গে আচরণের আদশ তাদের না নেমে গিয়ে থাকতে পারে না। ক্রমশই তাদের পক্ষে অন্তায় ঔদ্ধত্য এবং নিষ্ঠুরতা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে থাকে । নিজের ইচ্ছাকে অন্তের প্রতি প্রয়োগ করা তাদের পক্ষে একান্ত সহজ হওয়াতেই মানবস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা নিজের অগোচরেই তাদের মনে শিথিল হয়ে আসে। ক্ষমতা যতই অবাধ হয় ক্ষমতা ততই মানুষকে নীচের দিকে নিয়ে যায় । এই জন্তে ক্ষমতাকে যথোচিত পরিমাণে বাধা দেবার শক্তি যার মধ্যে নেই তার ছৰ্বলতা সমস্ত মামুষেরই শত্রু । আমাদের সমাজ মামুষের ভিতর থেকে সেই Y (R &