পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর প্রতি খৃস্টানের অবজ্ঞা ও অবিচার তার নামের জোরে যত সজীব হয়ে আছে এমন আর-কিছুতে নয় । * 卢 আমাদের দেশে সাধারণত শাক্তধর্মসাধনা এবং বৈষ্ণবধর্মসাধনার মধ্যে হুই স্বতন্ত্র ভাব প্রাধান্ত লাভ করেছে। এক সাধনায় পশুবলি এবং মাংসভোজন, অন্ত সাধনায় অহিংসা ও নিরামিষ আহার— এটা নিতান্ত নিরর্থক নয় । বিশেষ শাস্ত্রে এই পশু এবং অপরাপর মকারের যে ব্যাখ্যাই থাক, সাধারণ ব্যবহারে তা প্রচলিত নেই। এইজন্তেই শক্তি’ শব্দের সাধারণ যে অর্থ, যে অর্থ নানা চিহ্নে অনুষ্ঠানে ও ভাবে শক্তিপূজার মধ্যে ওতপ্রোত এবং বাংলাদেশের মঙ্গলকাব্যে যে অর্থ প্রচারিত হয়েছে আমি সেই অর্থই আমার রচনায় গ্রহণ করেছি। একটি কথা মনে রাখতে হবে, দসু্যর উপাস্ত দেবতা শক্তি, ঠগীর উপাস্ত দেবতা শক্তি, কাপালিকের উপাস্ত দেবতা শক্তি । আরো একটি ভাববার কথা আছে, পশুবলি বা নিজের রক্তপাত, এমন কি, নরবলি স্বীকার ক’রে মানত দেবার প্রথা শক্তিপূজায় প্রচলিত। মিথ্যা মামলায় জয় থেকে শুরু করে জ্ঞাতিশত্রুর বিনাশ কামনা পর্যন্ত সকল প্রকার প্রার্থনাই শক্তিপূজায় স্থান পায় । এক দিকে দেবচরিত্রের হিংস্রতা, অপর দিকে মানুষের ধর্মবিচারহীন ফলকামনা, এই ছষ্টয়ের যোগ যে পূজায় আছে, তার চেয়ে বড়ো শক্তিপূজার কথা কোনো বিশেষ শাস্ত্রে নিগুঢ় আছে কি না সেটা আমার আলোচ্য ছিল না। শক্তিপূজার যে অর্থ লৌকিক বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত সে অর্থকে অসংগত বলা যায় না ; কারণ লোকপ্রচলিত কাহিনী এবং রূপকচিহ্নে সেই অর্থই প্রবল এবং সভ্য ও বর্বর সকল দেশে সকল ভাবেই শক্তিপূজা চলছে— অন্যায় অসত্য সে পূজায় লজ্জিত নয়, লোভ তার লক্ষ্য, এবং হিংসা তার পূজোপচার। এই লোভ মন নয়, ভালোই ; হিংস্ৰশক্তি মনুষ্যত্বের পক্ষে অত্যাবশ্বক— এমন সকল তর্ক শক্তিপূজক যুরোপে স্পর্ধার সঙ্গে চলছে, XV e.