পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন করে ঘোরাচ্ছে তার দিকেও খেয়াল নেই। চালাক ছেলেটি মোটরের কলকারখানা পুরোপুরি শিখে নিলে এবং এক দিন গ্রাড়িখানা নিজের হাতে বাগিয়ে নিয়ে উধ্বস্বরে বাশি বাজিয়ে দৌড় মারলে । গাড়ি চালাবার শখ দিন রাত এমনি তাকে পেয়ে বসল যে, বাপ আছেন কি নেই সে হশই তার রইল না। তাই ব'লেই তার বাপ যে তাকে তলব ক’রে গলে চড় মেরে তার গাড়িটা কেড়ে নিলেন তা নয় ; তিনি স্বয়ং যে রথের রধী তার ছেলেও যে সেই রথেরই রথী, এতে তিনি প্রসন্ন হলেন । ভালোমমুষ ছেলে দেখলে, ভায়াটি তার পাকা ফসলের খেত লণ্ডভণ্ড করে তার মধ্যে দিয়ে দিনে ছুপুরে হাওয়াগাড়ি চালিয়ে বেড়াচ্ছে ; তাকে রোথে কার সাধ্য, তার সামনে দাড়িয়ে বাপের দোহাই পাড়লে 'মরণং ধ্ৰুবং’ । তখনে। সে বাপের পায়ের দিকে তাকিয়ে রইল আর বললে, ‘আমার আর-কিছুতে দরকার নেই।” কিন্তু, দরকার নেই ব’লে কোনো সত্যকার দরকারকে যে মানুষ খাটো করেছে তাকে দুঃখ পেতেই হবে । প্রত্যেক দরকারেরই একটা মর্যাদা আছে, সেইটুকুর মধ্যে তাকে মানলে তবেই ছাড়পত্র পাওয়া যায় । দরকারকে অবজ্ঞা করলে তার কাছে চিরঞ্চণী হয়ে স্থদ দিতে দিতে জীবন কেটে যায়। তাকে ঠিক পরিমাণে মেনে তবে আমরা মুক্তি পাই । পরীক্ষকের হাত থেকে নিস্কৃতি পাবার সব চেয়ে প্রশস্ত রাস্ত হচ্ছে পরীক্ষায় পাশ কর । বিশ্বের একট। বাইরের দিক আছে, সেই দিকে সে মন্ত একটা কল । সে দিকে তার বাধা নিয়মের এক চুল এদিক-ওদিক হবার জো নেই। এই বিরাট বস্তুবিশ্ব আমাদের নানা রকমে বাধা দেয় ; কুঁড়েমি ক’রে বা মূর্খত ক’রে যে তাকে এড়াতে গেছে বাধাকে সে ফাকি দিতে পারে নি, নিজেকেই ফাকি দিয়েছে ; অপর পক্ষে বস্তুর নিয়ম যে শিখেছে শুধু যে বস্তুর বাধা তার কেটেছে তা নয়, বস্তু স্বয়ং তার সহায় হয়েছে— >●●