পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর বস্তুবিশ্বের দুর্গম পথে ছুটে চলবার বিদ্যা তার হাতে, সকল জায়গায় সকলের আগে গিয়ে সে পৌছতে পারে বলে বিশ্বভোজের প্রথম ভাগটা পড়ে তারই পাতে। আর, পথ হাটতে হাটতে যাদের বেলা হয়ে যায় তারা গিয়ে দেখে যে, তাদের ভাগ্যে হয় অতি সামান্তই বাকি নয় সমস্তই ফাকি । এমন অবস্থায়, পশ্চিমের লোক যে বিদ্যার জোরে বিশ্ব জয় করেছে সেই বিদ্যাকে গাল পাড়তে থাকলে দুঃখ কমবে না, কেবল অপরাধ বাড়বে। কেননা, বিদ্যা যে সত্য। কিন্তু এ কথা যদি বল, শুধু তো বিদ্যা নয়, বিদ্যার সঙ্গে সঙ্গে শয়তানিও আছে, তা হলে বলতে হবে, ঐ শয়তানির যোগেই ওদের মরণ । কেননা, শয়তানি সত্য নয় । জন্তুরা আহার পায় বাচে, আঘাত পায় মরে, যেটাকে পায় সেটাকেই বিনা তর্কে মেনে নেয় । কিন্তু, মামুষের সব চেয়ে বড়ো স্বভাব হচ্ছে মেনে না নেওয়া । জন্তুরা বিদ্রোহী নয়, মানুষ বিদ্রোহী। বাইরে থেকে ষ ঘটে, যাতে তার নিজের কোনো হাত নেই, কোনো সায় সেই, সেই ঘটনাকে মানুষ একেবারে চূড়ান্ত বলে স্বীকার করে নি ব’লেই চীবের ইতিহাসে সে আজ এত বড়ো গৌরবের পদ দখল করে বসেছে। আসল কথা, মানুষ একেবারেই ভালোমানুষ নয় । ইতিহাসের আদিকাল থেকে মানুষ বলেছে, বিশ্বঘটনার উপরে সে কর্তৃত্ব করবে । কেমন করে করবে ? না, ঘটনার পিছনে যে প্রেরণ আছে, যার থেকে ঘটনা গুলো বেরিয়ে এসেছে, তারই সঙ্গে কোনোমতে যদি রক্ষা করতে বা তাকে বাধ্য করতে পারে তা হলেই সে আর ঘটনার দলে থাকবে না, ঘটয়িতার দলে গিয়ে ভতি হবে । সাধনা আরম্ভ করলে মন্ত্রতন্ত্র নিয়ে । গোড়ায় তার বিশ্বাস ছিল, জগতে যা-কিছু ঘটছে এ-সমস্তই একটা অদ্ভুত জান্থশক্তির জোরে, অতএব তারও যদি জাদুশক্তি থাকে তবেই শক্তির সঙ্গে শক্তির যোগে সে কর্তৃত্ব লাভ করতে পারে । )も8