পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর করে। বুদ্ধির নিয়মের সঙ্গে এই বিশ্বের নিয়মের সামঞ্জস্ত আছে, এইজন্তে এই নিয়মের পরে অধিকার আমাদের প্রত্যেকের নিজের মধ্যেই নিহিত— এই কথা জেনে তবেই আমরা আত্মশক্তির উপর নিঃশেষে ভর দিয়ে দাড়াতে পেরেছি। বিশ্বব্যাপারে যে মাৰ্ছৰ আকস্মিকতাকে মানে সে নিজেকে মানতে সাহস করে না, সে যখন তখন যাকে-তাকে মেনে বসে ; শরণাগত হবার জন্তে সে একেবারে ব্যাকুল। মানুষ যখন ভাবে, বিশ্বব্যাপারে তার নিজের বুদ্ধি খাটে না, তখন সে আর সন্ধান করতে চায় না, প্রশ্ন করতে চায় না, তখন সে বাইরের দিকে কর্তাকে খুজে বেড়ায় ; এই জন্তে বাইরের দিকে সকলেরই কাছে সে ঠকছে, পুলিসের দারোগ থেকে ম্যালেরিয়ার মশা পর্যস্ত। বুদ্ধির ভীরুতাই হচ্ছে শক্তিহীনতার প্রধান আডড । পশ্চিমদেশে পোলিটিকাল স্বাতন্ত্র্যের যথার্থ বিকাশ হতে আরম্ভ হয়েছে কখন থেকে ? অর্থাৎ, কথন থেকে দেশের সকল লোক এই কথা বুঝেছে যে, রাষ্ট্রনিয়ম ব্যক্তিবিশেষের বা সম্প্রদায়বিশেষের খেয়ালের জিনিস নয়, সেই নিয়মের সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের সন্মতির সম্বন্ধ আছে ? যখন থেকে বিজ্ঞানের আলোচনায় তাদের মনকে ভয়মুক্ত করেছে। যখন থেকে তারা জেনেছে, সেই নিয়মই সত্য যে নিয়ম ব্যক্তিবিশেষের কল্পনার দ্বারা বিকৃত হয় না, খেয়ালের দ্বারা বিচলিত হয় না । বিপুলকায় রাশিয়া সুদীর্ঘ কাল রাজার গোলামি করে এসেছে, তার দুঃখের আর অস্ত ছিল না। তার প্রধান কারণ, সেখানকার অধিকাংশ প্রজাই সকল বিষয়েই দৈবকেই মেনেছে, নিজের বুদ্ধিকে মানে নি । আজ যদি বা তার রাজা গেল, কাধের উপরে তখনি আর-এক উৎপাত চড়ে বসে তাকে রক্তসমুদ্র সাৎরিয়ে নিয়ে ছভিক্ষের মরুডাঙায় আধমরা করে পৌছিয়ে দিলে। এর কারণ স্বরাজের প্রতিষ্ঠা বাহিরে নয়, যেআত্মবুদ্ধির প্রতি আস্থা আত্মশক্তির প্রধান অৰলম্বন সেই আস্থার উপরে। ծ ՖՆ