পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জন্ত অর্থের যে বিধান করেছেন তা যখাতধ। তিনি তার হুর্ব চন্দ্র গ্রন্থ নক্ষত্রে এই কথা লিখে দিয়েছেন, ‘বঙ্গরাজ্যে আমাকে না হলেও তোমার চলবে, ওখান থেকে আমি আড়ালে দাড়ালুম ; এক দিকে রইল আমার বিশ্বের নিয়ম, আর-এক দিকে রইল তোমার বুদ্ধির নিয়ম, এই দুয়ের যোগে তুমি বড়ো হও ; জয় হোক তোমার ; এ রাজ্য তোমারই হোক, এর ধন তোমার, অস্ত্র তোমারই। এই বিধিদত্ত স্বরাজ যে গ্রহণ করেছে অন্ত সকল রকম স্বরাজ সে পাবে, আর পেয়ে রক্ষা করতে পারবে । কিন্তু, নিজের বুদ্ধিবিভাগে যে লোক কৰ্তাভজা, পোলিটিকাল বিভাগেও কর্তাভজা হওয়া ছাড়া তার আর গতি নেই। বিধাতা স্বয়ং যেখানে কর্তৃত্ব দাবি করেন না সেখানেও যার কর্তা জুটিয়ে বলে, যেখানে সম্মান দেন সেখানেও যারা আত্মাবমাননা করে, তাদের স্বরাজে রাজার পর রাজার আমদানি হবে, কেবল ছোট্ট ঐ 'স্ব'টুকুকে বাচানোই দায় হবে । মানুষের বুদ্ধিকে ভূতের উপদ্রব এবং অন্ধুতের শাসন থেকে মুক্তি দেবার ভার যে পেয়েছে, তার বাসাটা পূর্বেই হোক আর পশ্চিমেই হোক, তাকে ওস্তাদ বলে কবুল করতে হবে । দেবতার অধিকার আধ্যাত্মিক মহলে, আর দৈত্যের অধিকার বিশ্বের অধিভৌতিক মহলে । দৈত্য বলছি আমি বিশ্বের সেই শক্তিরূপকে যা স্বৰ্ষনক্ষত্র নিয়ে আকাশে আকাশে তালে তালে চক্রে চক্রে লাঠিম ঘুরিয়ে বেড়ায় । সেই আধিভৌতিক রাজ্যের প্রধান বিদ্যাট আজ শুক্রাচার্যের হাতে। সেই বিষ্ঠাটার নাম সজীবনীবিদ্যা । সেই বিস্কার জোরে সম্যকরূপে জীবনরক্ষা হয়, জীবনপোষণ হয়, জীবনের সকল প্রকার স্বৰ্গতি দূর হতে থাকে ; অল্পের অভাব, বস্ত্রের অভাব, স্বাস্থ্যের অভাব মোচন হয় ; জড়ের অত্যাচার, জন্তুর অত্যাচার, মাছুষের অত্যাচার থেকে এই বিস্তাই রক্ষণ করে। > ðbዎ