পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-শিক্ষার মিলন এই বিদ্যা যথাতৰ বিধির નિટ લ ૧ામ আমাদের বুদ্ধির সঙ্গে মিলৰে তখনই স্বাতন্ত্র্যলাভের গোড়াপত্তন হবে- অন্ত উপায় নেই । এই শিক্ষা থেকে ভ্ৰষ্টতার একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। হিন্দুর কুয়ো থেকে মুসলমানে জল তুললে তাতে জল অপবিত্র করে। এটা বিষম মুশকিলের কথা । কেননা, পবিত্রতা হল আধ্যাত্মিক রাজ্যের আর কুয়োর জলট হল বস্তুরাজ্যের । যদি বলা যেত, মুসলমানকে স্বণ করলে মন অপবিত্র হয় তা হলে সে কথা বোঝা যেত ; কেননা, সেটা আধ্যাত্মিক মহলের কথা । কিন্তু মুসলমানের ঘড়ার মধ্যে অপবিত্রত আছে বললে তর্কের সীমানাগত জিনিসকে তর্কের সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে বুদ্ধিকে ফাকি দেওয়া হয় । পশ্চিম-ইস্কুলমাস্টারের আধুনিক হিন্দু ছাত্র বলবে, আসলে ওটা স্বাস্থ্যতত্ত্বের কথা । কিন্তু স্বাস্থ্যতত্ত্বের কোনো অধ্যায়ে তো পবিত্রতার বিচার নেই । ইংরেজের ছাত্র বলবে, অধিভৌতিকে যাদের শ্রদ্ধা নেই আধ্যাত্মিকের দোহাই দিয়ে তাদের ভূলিয়ে কাজ করাতে হয়। এ জবাবটা একেবারেই ভালো নয়, কারণ যাদের বাইরে থেকে ভুলিয়ে কাজ আদায় করতে হয় চিরদিনই বাইরে থেকে তাদের কাজ করাতে হয় ; নিজের থেকে কাজ করার শক্তি তাদের থাকে না, সুতরাং কর্তা না হলে তাদের চলেষ্ট না । আর-একটি কথা, এই ভূল যখন সত্যের সহায়তা করতে যায় তখনো সে সত্যকে চাপ দেয়। 'মুসলমানের ঘড়া হিন্দুর কুয়োর জল অপরিষ্কার করে’ না ব’লে যেই বলা হয় “অপবিত্র করে তখনই সত্যনির্ণয়ের সমস্ত পৰ বন্ধ করা হয় । কেননা, কোনো জিনিস অপরিস্কার করে কি না করে সেটা প্রমাণসাপেক্ষ। সে স্থলে হিন্দুর ঘড়ী, মুসলমানের ঘড়া ; হিন্দুর কুয়োর জল, মুসলমানের কুয়োর জল ; হিন্দুপাড়ার স্বাস্থ্য, মুসলমানপাড়ার স্বাস্থ্য— বখানিয়মে ও যথেষ্ট পরিমাণে তুলনা করে পরীক্ষা করে দেখা চাই। পবিত্রতাঘটিত দোষ অস্তরের কিন্তু স্বাস্থ্যঘটিত 岱●希