পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


कॉब्लांखुद्भ দোষ বাইরের, অতএব বাইরে থেকে তার প্রতিকার চলে। স্বাস্থ্যতত্ত্ব হিসাবে ঘড়া পরিষ্কার রাখার নিয়ম বৈজ্ঞানিক নিয়ম, তা মুসলমানের পক্ষেও যেমন হিন্দুর পক্ষেও তেমনি ; সেটা যাতে উভয় পক্ষে সমান গ্রহণ করে উভয়ের কুয়ো উভয়েই ব্যবহার করতে পারে, সেইটেই চেষ্টার বিষয় । কিন্তু বাহাবস্তুকে অপরিস্কার না বলে অপবিত্র বলার দ্বারা চিরকালের জন্তেই এ সমস্তাকে সাধারণের বাইরে নির্বাসিত করে রাখা হয়। এটা কি কাজ সারার পক্ষেও ভালো রাস্তা ? এক দিকে বুদ্ধিকে মুগ্ধ রেখে আর-এক দিকে সেই মূঢ়তার সাহায্য নিয়েই ফাকি দিয়ে কাজ চালানে, এটা কি কোনো উচ্চ অধিকারের পথ ? চালিত যে তার দিকে অবুদ্ধি, আর চালক যে তার দিকে অসত্য এই দুয়ের সম্মিলনে কি কোনো কল্যাণ হতে পারে ? এই রকম বুদ্ধিগত কাপুরুষতা থেকে দেশকে বচাবার জন্তে আমাদের যেতে হবে শুক্রাচার্যের ঘরে । সে ঘর পশ্চিমদুয়ারি বলে যদি খামক ব’লে বলি 'ও ঘরটা অপবিত্র’, তা হলে যে বিদ্য। বাহিরের নিয়মের কথা শেখায় তার থেকে বঞ্চিত হব, আর যে বিদ্যা অস্তরের পবিত্রতার কথা বলে তাকে ও ছোটো করা হবে । এই প্রসঙ্গে একটা তর্ক ওঠবার আশঙ্কা আছে। এ কথা অনেকে বলবেন, পশ্চিমদেশ যখন বুনো ছিল, পগুচর্ম প'রে মৃগয়া করত, তখন কি আমরা নিজের দেশকে অন্ন জোগাই নি, বস্ত্র জোগাই নি ? ওরা যখন দলে দলে সমুদ্রের এ-পারে ও-পারে দস্যবৃত্তি করে বেড়াত, আমরা কি তখন স্বরাজশাসনবিধি আবিষ্কার করি নি ? নিশ্চয় করেছি। কিন্তু কারণটা কী ? আর তো কিছুই নয়, বস্তুবিদ্যা ও নিয়মতত্ত্ব ওরা যতটা শিখেছিল আমরা তার চেয়ে বেশি শিখেছিলেম । পশুচর্ম পরতে যে বিদ্য লাগে তাত বুনতে তার চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যার দরকার ; পশু মেরে খেতে যে বিষ্ঠা খাটাতে হয় চাষ করে খেতে তার চেয়ে ➢ ግe