পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন অনেক বেশি বিদ্যা লাগে । দস্যবৃত্তিতে যে বিদ্যা রাজ্য- চললে ও পালনে তার চেয়ে অনেক বেশি। আজ আমাদের পরস্পরের অবস্থাটা যদি একেবারে উণ্টে গিয়ে থাকে, তার মধ্যে দৈবের কোনো ফাকি নেই। কলিঙ্গের রাজাকে পথে ভাসিয়ে দিয়ে বনের ব্যাধকে আজ সিংহাসনে যে চড়িয়ে দিয়েছে সে তো কোনো দৈব নয়, সে ঐ বিদ্যা । অতএব আমাদের সঙ্গে ওদের প্রতিযোগিতার জোর কোনো বাহ ক্রিয়াকলাপে কমবে না ; ওদের বিদ্যাকে আমাদের বিদ্যা করতে পারলে তবেই ওদের সামলানো যাবে। এ কথার একমাত্র অর্থ, আমাদের সর্বপ্রধান সমস্ত শিক্ষণসমস্ত । অতএব, শুক্রাচার্যের আশ্রমে আমাদের যেতে হচ্ছে । এই পর্যন্ত এগিয়ে একটা কথায় এসে মন ঠেকে যায় । সামনে এই প্রশ্নটা দেখা দেয়, ‘সব মানলেম, কিন্তু পশ্চিমের যে শক্তি রূপ দেখে এলে তাতে কি তৃপ্তি পেয়েছ ? না, পাই নি । সেখানে ভোগের চেহারা দেখেছি, আনন্দের না। অনবচ্ছিন্ন সাত মাস আমেরিকায় ঐশ্বর্যের দানবপুরীতে ছিলেম। দানব মন অৰ্থে বলছি নে, ইংরাজিতে বলতে হলে ছয়তো বলতেম, টাইটানিক ওয়েল্থ । অর্থাৎ, যে ঐশ্বর্ষের শক্তি প্রবল, আয়তন বিপুল । হোটেলের জানলার কাছে রোজ ত্রিশপয়ত্রিশতলা বাড়ির ভ্ৰকুটির সামনে বসে থাকতেম আর মনে মনে বলতেম, লক্ষী হলেন এক, আর কুবের হল আর — অনেক তফাত । লক্ষ্মীর অস্তরের কথাটি হচ্ছে কল্যাণ, সেই কল্যাণের দ্বারা ধন ঐ লাভ করে । কুবেরের অস্তুরের কথাটি হচ্ছে সংগ্রহ, সেই সংগ্রহের দ্বারা ধন বহুলত্ব লাভ করে । বহুলত্বের কোনো চরম অর্থ নেই। দুই দুগুণে চার, চার দুগুণে আট, আট জুগুণে বোলো, অঙ্কগুলো ব্যাঙের মতো লাফিয়ে চলে— সেই লাফের পাল্লা কেবলই লম্বা হতে থাকে। এই নিরস্তর উল্লম্ফনের ঝোকের মাঝখানে যে প’ড়ে গেছে তার রোখ চেপে » ፃ »