পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর যায়, রক্ত গরম হয়ে ওঠে, বাহাদুরির মত্ততায় সে ভো হয়ে যায়। আর, যে লোক বাইরে বসে আছে তার যে কত বড়ো পীড়া এইখানে তার একটা উপমা দিই। এক দিন আশ্বিনের ভরা নদীতে আমি বজরার জানলায় বসে ছিলেম, সেদিন পূর্ণিমার সন্ধ্যা । অদূরে ভাঙার উপরে এক গহনার নৌকোর ভোজপুরি মাল্লার দল উৎকট উৎসাহে আত্মবিনোদনের কাজে লেগে গিয়েছিল । তাদের কারও হাতে ছিল মাদল, কারও হাতে করতাল । তাদের কণ্ঠে সুরের আভাসমাত্র ছিল না, কিন্তু বাহুতে শক্তি ছিল সে কথা কার সাধ্য অস্বীকার করে ? খচমচ শব্দে তালের নাচন ক্রমেই দুন চৌদুন লয়ে চড়তে লাগল । রাত এগারোটা হয়, দুপুর বাজে, ওরা থামতেই চায় না । কেননা, থামবার কোনোই সংগত কারণ নেই। সঙ্গে যদি গান থাকত তা হলে সমও থাকত। কিন্তু অরাজক তালের গতি আছে, শান্তি নেই ; উত্তেজনা আছে, পরিতৃপ্তি নেই। সেই তালমাতালের দল প্রতি ক্ষণেই ভাবছিল, ভরপুর মজা হচ্ছে। আমি ছিলেম তাণ্ডবের বাইরে ; আমিই বুঝছিলেম, গানহীন তালের দৌরাত্ম্য বড়ো অসহ্য । । তেমনি ক’রেই আটলান্টিকের ও পারে ইটপাথরের জঙ্গলে ব’লে আমার মন প্রতিদিনই পীড়িত হয়ে বলেছে, তালের খচমচর অস্ত নেই, কিন্তু মুর কোথায় ? আরো চাই, আরো চাই, আরো চাই – এ বাণীতে তো সৃষ্টির মুর লাগে না । তাই সে দিন সেই ভ্ৰকুটকুটিল অভ্ৰভেদী ঐশ্বর্যের সামনে দাড়িয়ে ধনমানহীন ভারতের একটি সস্তান প্রতিদিন ধিক্কারের সঙ্গে বলেছে, ততঃ কিম্‌ ! এ কথা বারবার বলেছি, আবার বলি, আমি বৈরাগ্যের নাম ক’রে শূন্ত ঝুলির সমর্থন করি নে। আমি এই বলি, অন্তরে গান ব’লে সত্যটি যদি ভরপুর থাকে তবে তার সাধনায় স্বর তাল রসের সংযমরক্ষা করে,

  • १ २