পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন বাহিরের বৈরাগ্য অন্তরের পূর্ণতার সাক্ষ্য দেয়। কোলাহলের উচ্ছম্বল নেশায় সংযমের কোনো বালাই নেই। অস্তরে প্রেম ব’লে সত্যটি যদি থাকে তবে তার সাধনায় ভোগকে হতে হয় সংযত, সেবাকে হতে হয় খাটি । এই সাধনার সতীত্ব থাক। চাই । এই সতীত্বের যে বৈরাগ্য অর্থাৎ সংযম সেই হল প্রকৃত বৈরাগ্য। অন্নপূর্ণার সঙ্গে বৈরাগির ষে মিলন সেই হল প্রকৃত মিলন । যখন জাপানে ছিলেম তখন প্রাচীন জাপানের যে রূপ সেখানে দেখেছি সে আমাকে গভীর তৃপ্তি দিয়েছে। কেননা, অর্থহীন বহুলতা তার বাহন নয়। প্রাচীন জাপান আপন হৃংপদ্মের মাঝখানে সুন্দরকে পেয়েছিল। তার সমস্ত বেশভূষা, কর্ম, খেলা, তার বাসা, আসবাব, তার শিষ্টাচার, ধর্মানুষ্ঠান, সমস্তই একটি মূল ভাবের দ্বারা অধিকৃত হয়ে সেই এককে, সেই মুন্দরকে বৈচিত্র্যের মধ্যে প্রকাশ করেছে । একান্ত রিক্ততাও নিরর্থক, একাস্ত বহুলতাও তেমনি । প্রাচীন জাপানের যে জিনিসটি আমার চোখে পড়েছিল তা রিক্ততাও নয়, বহুলতাও নয়, ভ। পূর্ণত। এই পূর্ণতাই মামুষের হৃদয়কে আতিথ্য দান করে ; সে ডেকে আনে, সে তাড়িয়ে দেয় না । আধুনিক জাপানকেও এর পাশাপাশি দেখেছি। সেখানে ভোজপুরি মাল্লার দল আড করেছে ; তালের ষে প্রচণ্ড থচমচ উঠেছে মুন্দরের সঙ্গে তার মিল হল না, পূর্ণিমাকে তা ব্যঙ্গ করতে লাগল । পূর্বে যা বলেছি তাঁর থেকে এ কথা সবাই বুঝবেন যে, আমি বলি নে রেলওয়ে টেলিগ্রাফ কল কারখানার কোনোই প্রয়োজন নেই। আমি বলি, প্রয়োজন আছে কিন্তু তার বাণী নেই ; বিশ্বের কোনো স্বরে সে সায় দেয় না, হৃদয়ের কোনো ডাকে সে সাড়া দেয় না । মামুষের যেখানে অভাব সেইখানে তৈরি হয় তার উপকরণ, মামুষের যেখানে পূর্ণতা সেইখানে প্রকাশ হয় তার অমৃতরূপ। এই অভাবের দিকে উপকরণের 5 qе