পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর মহলে মামুষের ঈর্ষ বিদ্বেষ ; এইখানে তার প্রাচীর, তার পাহারা ; এইখানে সে আপনাকে বাড়ায়, পরকে তাড়ায় ; সুতরাং এইখানেই তার লড়াই। যেখানে তার অমৃত— যেখানে মানুষ, বস্তুকে নয়, আত্মাকে প্রকাশ করে, সেখানে সকলকে সে ডেকে আনে ; সেখানে ভাগের দ্বারা ভোজের ক্ষয় হয় না ; সুতরাং সেইখানেই শান্তি । যুরোপ যখন বিজ্ঞানের চাবি দিয়ে বিশ্বের রহস্তনিকেতনের দরজা খুলতে লাগল তখন যে দিকে চায় সেই দিকেই দেখে বাধা নিয়ম। নিয়ত এই দেখার অত্যাসে তার এই বিশ্বাসট ঢিলে হয়ে এসেছে যে, নিয়মেরও পশ্চাতে এমন কিছু আছে যার সঙ্গে আমাদের মানবত্বের অন্তরঙ্গ মিল আছে। নিয়মকে কাজে খাটিয়ে আমরা ফল পাই, কিন্তু ফল পাওয়ার চেয়েও মানুষের একটা বড়ো লাভ আছে। চা-বাগানের ম্যানেজার কুলিদের পরে যে নিয়ম চালনা করে সে নিয়ম যদি পাক৷ হয় তা হলে চায়ের ফলনের পক্ষে কাজে লাগে । কিন্তু, বন্ধু সম্বন্ধে ম্যানেজারের তো পাকা নিয়ম নেই। তার বেলায় নিয়মের কথাই ওঠে না। ঐ জায়গাটাতে চায়ের আয় নেই, ব্যয় আছে। কুলির নিয়মট আধিভৌতিক বিশ্বনিয়মের দলে, সেইজন্যে সেট চা-বাগানেও থাটে । কিন্তু, যদি এমন ধারণা হয় যে, ঐ বন্ধুতার সত্য কোনো বিরাট সত্যের অঙ্গ নয়, তা হলে সেই ধারণায় মানবত্বকে শুকিয়ে ফেলে। কলকে তো আমরা অস্ট্রিীয় ব’লে বরণ করতে পারি নে ; তা হলে কলের বাইরে কিছু যদি না থাকে তবে আমাদের যে আত্ম আত্মীয়কে খোজে সে দাড়ায় কোথায় ? এক রেখে বিজ্ঞানের চর্চা করতে করতে পশ্চিমদেশে এই আত্মাকে কেবলই সরিয়ে সরিয়ে ওর জন্তে আর জায়গা রাখলে না। একঝোক আধ্যাত্মিক বুদ্ধিতে আমরা দারিদ্র্যে দুর্বলতায় কৰ্ণত হয়ে পড়েছি, আর ওরাই কি এককোক আধিভৌতিক চালে এক পায়ে লাফিয়ে মহম্মত্বের সার্থকতার মধ্যে গিয়ে পেচচ্ছে ? › ግ8