পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন বিশ্বের সঙ্গে যাদের এমনিতরে। চা-বাগানের ম্যানেজারির সম্বন্ধ তাদের সঙ্গে যে-লে লোকের পেরে ওঠা শক্ত। সুদক্ষতার বিদ্যাট এরা আয়ত্ত করে নিয়েছে। তালোমানুষ লোক তাদের সন্ধানপর আড়কাঠির হাতে ঠকে যায়, ধরা দিলে ফেরবার পথ পায় না। কেননা ভালোমানুষ লোকের নিয়মবোধ নেই, যেখানে বিশ্বাস করবার নয় ঠিক সেইখানেই আগেভাগে সে বিশ্বাস করে বসে আছে – তা সে বুহম্পতিবারের বারবেলা হোক, রক্ষামস্ত্রের তাবিজ হোক, উকিলের দালাল হোক, আর চা-বাগানের আড়কাঠি হোক। কিন্তু, এই নেহাত ভালোমামুষেরও একটা জায়গা আছে যেটা নিয়মের উপরকার ; সেখানে দাড়িয়ে সে বলতে পারে, ‘সাত জন্মে আমি যেন চা-বাগানের ম্যানেজার না হই, ভগবান, আমার পরে এই দয়া করে । অথচ, এই অনবচ্ছিন্ন চাবাগানের ম্যানেজার-সম্প্রদায় নিখুত ক’রে উপকার করতে জানে । জানে তাদের কুলির বসতি কেমন করে ঠিক যেন কাচিছাট সোজা লাইনে পরিপটি করে বানিয়ে দিতে হয় ; দাওয়াইখান ডাক্তারখানা হাটবাজারের যে ব্যবস্থা করে সে খুব পরিপাটি। এদের এই নিৰ্মামুষিক স্থব্যবস্থায় নিজেদের মুনফা হয়, অন্তদের উপকারও হতে পারে, কিন্তু নাস্তি তত: সুখলেশ: সত্যং । is কেউ না মনে করেন, আমি কেবলমাত্র পশ্চিমের সঙ্গে পূর্বের সম্বন্ধ নিয়েই এই কথাটা বলছি । ষান্ত্রিকতাকে অস্তরে বাহিরে বড়ো ক’রে তুলে পশ্চিমসমাজে মানবসম্বন্ধের বিশ্লিষ্টত ঘটেছে। কেননা, স্কু দিয়ে স্বাটা, আঠা দিয়ে জোড়ার বন্ধনকেই ভাবনায় এবং চেষ্টায় প্রধান ক’রে তুললে অস্তরতম যে অক্সিক বন্ধনে মাছুষ স্বতঃপ্রসারিত আকর্ষণে পরস্পর গভীরভাবে মিলে যায় সেই পৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন বন্ধন শিথিল হতে থাকে । অথচ, মাছুষকে কলের নিয়মে বাৰার আশ্চর্য সফলতা আছে ? তাতে পণ্যদ্রব্য রাশীকৃত হয়, বিশ্ব জুড়ে হাট ৰসে, মেঘ ভেদ করে ➢ ግ¢