পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর” কোঠাবাড়ি ওঠে। এ দিকে সমাজব্যাপারে শিক্ষা বল, আরোগ্য বল, জীবিকার সুযোগসাধন বল, নানা প্রকার হিতকর্মেও মামুষের বোলো আন জিত হয়। কেননা, পূর্বেই বলেছি, বিশ্বের বাহিরের দিকে এই কল জিনিসটা সত্য । সেইজন্যে এই যান্ত্রিকতায় যাদের মন পেকে যায় ফললাভের দিকে তাদের লোভের অস্ত থাকে না । লো গু যতই বাড়তে থাকে, মামুবতে মানুষ খাটো করতে ততই আর দ্বিধা করে না । কিন্তু, লোভ তো একটা তত্ত্ব লয়, লোভ ইচ্ছে রিপু। রিপুর কর্ম নয় স্বাক্ট করা । তাই, ফললাভের লোভ যখন কোনো সভ্যতার অস্তরে প্রধান আসন গ্রহণ করে তখন সেই সভ্যতায় মানুষের আত্মিক যোগ বিশ্লিষ্ট হতে থাকে। সেই সভ্যতা যতই ধনলাভ করে, বরলাভ করে, সুবিধাসুযোগের যতই বিস্তার করতে থাকে, মামুষের আত্মিক সত্যকে ততই সে দুর্বল করে । এক মানুষ ভয়ংকর নিরর্থক ; কেননা, একার মধ্যে ঐক্য নেই। বহুকে নিয়ে যে এক সেই হল সত্য এক । বহু থেকে বিচ্ছিন্ন যে সেই লক্ষ্মীছাড়া এক ঐক্য থেকে বিচ্ছিন্ন এক । ছবি এক লাইনে হয় না, সে হয় নানা লাইনের ঐক্যে : ছবির মধ্যে প্রত্যেক লাইনটি ছোটে৷ বড়ো সমস্ত লাইনের আত্মীয়। এই আত্মীয়তার সামরস্তে ছবি হল স্মৃষ্টি । এঞ্জিনিয়র সাহেব নীল রঙের মোম গ্রামার উপর বাড়ির প্ল্যান অঁাকেন, তাকে ছবি বলি নে ; কেননা, সেখানে লাইনের সঙ্গে লাইনের অস্তরের আত্মিক সম্বন্ধ নয়, বাহির মহলের ব্যবহারিক সম্বন্ধ । তাই ছবি হল স্বজন, প্ল্যান হল নিৰ্মাণ । তেমনি ফললাভের লোভে ব্যবসায়িকতাই যদি মানুষের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে তবে মানবসমাজ প্রকাগু প্ল্যান হয়ে উঠতে থাকে, ছবির আর কিছু বাকি থাকে না। তখন মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্বন্ধ খাটো হতে থাকে। তখন ধন হয় সমাজের রখ, ধনী হয় সমাজের মুৰী, আর ➢ ፃፀ