পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর হচ্ছে এই ঈশবাস্তমিদং সৰ্বং’, ‘সংসারে যা-কিছু চলছে সমস্ত ঈশ্বরের দ্বারা আচ্ছন্ন। ষা-কিছু চলছে সেইটেই যদি চরম সত্য হত, তার বাইরে আর কিছুই না থাকত, তা হলে চলমান বস্তুকে যথাসাধ্য সংগ্রহ করাই মামুষের সব চেয়ে বড়ো সাধনা হত। তা হলে লোভই মামুষকে সব চেয়ে বড়ো চরিতার্থতা দিত। কিন্তু, ঈশ সমস্ত পূর্ণ করে রয়েছেন, এইটেই যখন শেষ কথা তখন আত্মার দ্বারা এই সত্যকে ভোগ করাই হবে পরম সাধনা ; আর, তেন ত্যক্তেন ভুল্পীথা:, ত্যাগের দ্বারাই এই ভোগের সাধন হবে, লোভের দ্বারা নয় । সাত মাস ধরে আমেরিকায় আকাশের বক্ষোবিদারী ঐশ্বর্যপুরীতে বলে এই সাধনার উন্টো পথে চলা দেখে এলেম । সেখানে "যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগং সেটাই মস্ত হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে, আর "ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং সেইটেই ডলারের ঘন ধুলায় আচ্ছন্ন। এইজন্তেই সেখানে 'ভুঞ্জীথt:' এই বিধানের পালন সত্যকে নিয়ে নয়, ধনকে নিয়ে ; ত্যাগকে নিয়ে নয়, লোভকে নিয়ে । ঐক্য দান করে সত্য, ভেদবুদ্ধি ঘটায় ধন । তা ছাড়া সে অস্তরাত্মাকে শৃঙ্গ রাখে। সেইজন্তে পূর্ণতাঁকে বাইরের দিক থেকে ছিনিয়ে নিতে ইচ্ছা করে, সুতরাং কেবল সংখ্যাবৃদ্ধির দিকে দিনরাত উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়তে হয়, ‘আরো ‘আরো" হাকতে হাকতে হাপাতে হাপাতে নামতার কোঠায় কোঠায় আকাঙ্ক্ষার ঘোড়দৌড় করাতে করাতে ঘূর্ণি লাগে ; ভূলেই যেতে হয়, অন্ত যা-কিছু পাই আনন্দ পাচ্ছি নে। তা হলে চরিতার্থতা কোথায় ? তার উত্তর এক দিন ভারতবর্ষের ঋষির দিয়েছেন। তারা বলেন, চরিতার্থতা পরম একের মধ্যে । গাছ থেকে আপেল পড়ে— একটা, দুটো, তিনটে, চারটে । আপেল-পড়ার অস্তবিহীন সংখ্যাগণনার মধ্যেই আপেল-পড়ার সত্যকে পাওয়া যায়, এ কথ! যে বলে প্রত্যেক সংখ্যার কাছে এসে তাকে তার মন ধাক্কা দিয়ে বলবে, ততঃ কিম্‌! তার দৌড়ও খামবে না, তার প্রশ্নের উত্তরও "לר צ