পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর এক দিকে এটাও ভেদবুদ্ধির কথা, অপর দিকে এটা সাধারণ বিষয়বুদ্ধির কথাও নয়। ভারতবর্ষ এই মোহকে সমর্থন করেন নি । তাই মন্ত্র বলেছেন— مصے” ন তথৈতানি শক্যস্তে সংনিয়ন্ত মসেবয়া । বিষয়েমু প্রজুষ্টানি যথা জ্ঞানেন নিত্যশ: | বিষয়ের সেবা ত্যাগের দ্বারা তেমন করে সংযমন হয় না, বিষয়ে নিযুক্ত থেকে জ্ঞানের দ্বারা নিত্য-নিত্য যেমন করে হয় । এর কারণ, বিষয়ের দায় আধিভৌতিক বিশ্বের দায়, সে দায়কে ফাকি দিয়ে আধ্যাত্মিকের কোঠায় ওঠা যায় না ; তাকে বিশুদ্ধরূপে পূর্ণ করে তবে উঠতে হয়। তাই উপনিষং বলেছেন : অবিস্তয়া মৃত্যুং তীর্ত, বিদ্যয়ামৃতমশ্ন তে। অবিস্কার পথ দিয়ে মৃত্যু থেকে বাচতে হবে, তার পরে বিদ্যার তীর্থে অমৃতলাভ হবে । শুক্রাচার্য এই মৃত্যু থেকে বচাবার বিদ্যা নিয়ে আছেন, তাই অমৃতলোকের ছাত্র কচকেও এই বিদ্যা শেখবার জন্তে দৈত্য-পাঠশালার খাতায় নাম লেখাতে হয়েছিল । আত্মিক সাধনার একটা অঙ্গ হচ্ছে জড়বিশ্বের অত্যাচার থেকে আত্মাকে মূক্ত করা। পশ্চিম-মহাদেশের লোকেরা সাধনার সেই দিকটার ভার নিয়েছে। এইটে হচ্ছে সাধনার সব-নিচেকার ভিত, কিন্তু এটা পাকা করতে না পারলে অধিকাংশ মামুষের অধিকাংশ শক্তিই পেটের দায়ে জড়ের গোলামি করতে ব্যস্ত থাকবে। পশ্চিম তাই হাতের আস্তিন গুটিয়ে খস্ত কোদাল নিয়ে এমনি ক’রে মাটির দিকে ঝুকে পড়েছে যে উপর-পানে মাথা তোলবার ফুসত তার নেই বললেই হয় । এই পাকা ভিতের উপর উপর-তলা যখন উঠবে তখনই হাওয়া-আলোর যারা ভক্ত তাদের বাসাটি হবে বাধাহীন । তত্ত্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানীরা বলেছেন, না-জানাই বন্ধনের কারণ, জানাতেই মুক্তি। >bre