পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন বর্তমান যুগের সাধনার সঙ্গেই বর্তমান যুগের শিক্ষার সংগতি হওয়া চাই। রাষ্ট্ৰীয় গণ্ডী-দেবতার বারা পূজারি তারা শিক্ষার ভিতর দিয়ে নানা ছুতোয় জাতীয় আত্মম্ভরিতার চর্চা করাকে কর্তব্য মনে করে। জর্মনি একদা শিক্ষাব্যবস্থাকে তার রাষ্ট্রনৈতিক ভেদবুদ্ধির ক্রীতদাসী করেছিল ব’লে পশ্চিমের অন্তান্ত নেশন তার নিন্দ করেছে। পশ্চিমের কোম্ বড়ো নেশন এ কাজ করে নি ? আসল কথা, জর্ধনি সকল বিভাগেই বৈজ্ঞানিক রীতিকে অগুণন্ত সকল জাতির চেয়ে বেশি আয়ত্ত করেছে ; সেইজন্তে পাক নিয়মের জোরে শিক্ষাবিধিকে নিয়ে স্বাজাত্যের ডিমে তা দেবার ইনকুবেটার যন্ত্র সে বানিয়েছিল । তার থেকে যে বাচ্ছা জন্মেছিল দেখা গেছে অন্তদেশী বাচ্ছার চেয়ে তার দম অনেক বেশি। কিন্তু তার প্রতিপক্ষ পক্ষীদের ডিমেতেও তা দিয়েছিল সে দিককার শিক্ষাবিধি। আর, আজ ওদের অধিকাংশ খবরের কাগজের প্রধান কাজটা কী ? জাতীয় আত্মম্ভরিতার কুশল কামনা করে প্রতিদিন অসত্যপীরের সিন্নি মান । স্বাজাত্যের অহমিকা থেকে মুক্তিদান করার শিক্ষাই আজকের দিনের প্রধান শিক্ষা । কেননা, কালকের দিনের ইতিহাস সর্বজাতিক সহযোগিতার অধ্যায় আরম্ভ করবে। যে-সকল রিপু, যে-সকল চিস্তার অভ্যাস ও আচারপদ্ধতি এর প্রতিকুল তা আগামীকালের জন্তে আমাদের অধোগ্য ক’রে তুলবে। স্বদেশের গৌরববুদ্ধি আমার মনে আছে, কিন্তু আমি একান্ত আগ্রহে ইচ্ছা করি যে, সেই বুদ্ধি যেন কখনো আমাকে এ কথা না ভোলায় যে, এক দিন আমার দেশে সাধকেরা যে মন্ত্র প্রচার করেছিলেন সে হচ্ছে ভেদবুদ্ধি দূর করবার মন্ত্র। শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রের ও পারে মানুষ আজ আপনাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে, ‘আমাদের কোন শিক্ষণ, কোন চিন্তা, কোন কর্ণের মধ্যে মোহ প্রচ্ছন্ন হয়ে ছিল যার জন্তে আমাদের আজ এমন নিদারুণ শোক ? তার উত্তর আমাদের দেশ থেকেই দেশে দেশান্তরে পৌঁছুক যে, মানুষের এককে 〉b”。