পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর তোমরা সাধনা থেকে দুরে রেখেছিলে, সেইটেই মোহ, এবং তার থেকেই শোক । যস্মিন সর্বাণি ভূতানি আত্মৈবাভূদ্র বিজানতঃ । তত্ৰ কে! মোহ: কঃ শোক একত্বমস্থপশুত: | আমরা শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রের ও পারে মানুষ ব্যাকুল হয়ে বলছে, ‘শাস্তি চাই।' এই কথা তাদের জানাতে হবে, শাস্তি সেখানেই যেখানে মঙ্গল, মঙ্গল সেখানেই যেখানে ঐক্য। এইজন্ত পিতামহেরা বলেছেন ঃ শাস্তং শিবমদ্বৈতম | অদ্বৈতই শাস্ত, কেননা অদ্বৈতই শিব। স্বদেশের গৌরববুদ্ধি আমার মনে আছে, সেইজন্তে এই সম্ভাবনার কল্পনাতেও আমার লজ্জা হয় যে, অতীত যুগের ষে আবর্জনাভার সরিয়ে ফেলবার জন্তে আজ রুদ্রদেবতার হুকুম এসে পৌচেছে এবং পশ্চিমদেশ সেই হুকুমে জাগতে শুরু করেছে, আমরা পাছে স্বদেশে সেই আবর্জনার পীঠ স্থাপন করে আজ যুগান্তরের প্রত্যুষেও তামসী পূজাবিধি দ্বারা তার অর্চনা করবার আয়োজন করতে থাকি । যিনি শাস্ত, যিনি শিব, যিনি সর্বজাতিক মানবের পরমাশ্রয় অদ্বৈত, তারই ধানমন্ত্র কি আমাদের ঘরে নেই ? সেই ধ্যানমস্ত্রের সহযোগেই কি নবযুগের প্রথম প্রভাতরশ্মি মানুষের মনে সনাতন সত্যের উদবোধন এনে দেবে না ? এইজন্তেই আমাদের দেশের বিস্তানিকেতন পূর্বপশ্চিমের মিলননিকেতন ক'রে তুলতে হবে, এই আমার অস্তরের কামনা । বিষয়লাভের ক্ষেত্রে মামুষের বিরোধ মেটে নি, সহজে মিটতেও চায় না। সত্যলাভের ক্ষেত্রে মিলনের বাধা নেই । যে গৃহস্থ কেবলমাত্র আপন পরিবারকে নিয়েই থাকে, আতিথ্য করতে যার কৃপণতা, সে দীনাত্মা । শুধু গৃহস্থের কেন, প্রত্যেক দেশেরই কেবল নিজের ভোজনশালা নিয়ে চলবে না, তার অতিথিশালা চাই যেখানে বিশ্বকে অভ্যর্থনা ক’রে সে বঙ্গ হবে । শিক্ষাক্ষেত্রেই তার প্রধান অতিথিশালা । والحbج