পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন দুর্ভাগা ভারতবর্ষে বর্তমান কালে শিক্ষার যত-কিছু সরকারি ব্যবস্থা আছে তার পনেরো-আনা অংশই পরের কাছে বিদ্যাভিক্ষার ব্যবস্থা । ভিক্ষ যার বৃত্তি, আতিথ্য করে না ব’লে লজ্জা করাও তার ঘুচে যায়। সেইজন্তেই ব্রিশ্বের আতিথ্য করে না ব’লে ভারতীয় আধুনিক শিক্ষালয়ের লজ্জা নেই। সে বলে, “আমি ভিখারি, অামার কাছে আতিথ্যের প্রত্যাশ কারও নেই।’ কে বলে নেই ? আমি তো শুনেছি পশ্চিমদেশ বারম্বার জিজ্ঞাসা করছে, "ভারতের বাণী কই ? তার পর সে যখন আধুনিক ভারতের দ্বারে এসে কান পাতে তখন বলে, "এ তে সব আমারই বাণীর ক্ষীণ প্রতিধ্বনি, যেন ব্যঙ্গের মতো শোনাচ্ছে।’ তাই তো দেখি, আধুনিক ভারত যখন ম্যাকসমূলরের পাঠশাল থেকে বাহির হয়েই আর্যসভ্যতার দম্ভ করতে থাকে তখন তার মধ্যে পশ্চিম গড়ের ব’দ্যের কড়িমধ্যম লাগে, আর পশ্চিমকে যখন সে প্রবল ধিক্কারের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে তখনো তার মধ্যে সেই পশ্চিমরাগেরই তারসপ্তকের নিখাদ তীব্র হয়ে বাজে । আমার প্রার্থনা এই যে, ভারত আজ সমস্ত পূর্বভূভাগের হয়ে সত্যসাধনার অতিথিশালা প্রতিষ্ঠা করুক । তার ধনসম্পদ নেই জানি, কিন্তু তার সাধনসম্পদ আছে ; সেই সম্পদের জোরে সে বিশ্বকে নিমন্ত্রণ করবে এবং তার পরিবর্তে সে বিশ্বের সর্বত্র নিমন্ত্রণের অধিকার পাবে । দেউড়িতে নয়, বিশ্বের ভিতর-মহলে তার আসন পড়বে । কিন্তু আমি বলি, এই মানসম্মানের কথা এও বাহিরের, এ’কেও উপেক্ষা করা চলে । এই কথাই বলবার কথা যে, সত্যকে চাই অস্তরে উপলব্ধি করতে এবং সত্যকে চাই বাহিরে প্রকাশ করতে— কোনো সুবিধার জন্তে নয়, সম্মানের জন্তে নয়, মামুষের আত্মাকে তার প্রচ্ছন্নতা থেকে মুক্তি দেবার জন্তে । মামুষের সেই প্রকাশতত্ত্বটি আমাদের শিক্ষার মধ্যে প্রচার করতে হবে, কর্মের মধ্যে প্রচলিত করতে Sbro