পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


সত্যের আহবান

 পরাসক্ত কীট বা জন্তু পরের রস রক্ত শোষণ করে বঁাচে, খাদ্যকে নিজের শক্তিতে নিজ দেহের উপকরণে পরিণত করবার দেহযন্ত্ৰ তাদের বিকল হয়ে যায়; এমনি করে শক্তিকে অলস করবার পাপে প্ৰাণি লোকে এই-সকল জীবের অধঃপতন ঘটে। মানুষের ইতিহাসেও এই কথা খাটে। কিন্তু পরাসক্ত মানুষ বলতে কেবল যে পরের প্রতি জড়ভাবে আসক্ত মানুষকেই বোঝায় তা নয়। চিরদিন যা চলে আসছে তার সঙ্গে যে আপনাকে জুড়ে রেখে দেয়, প্ৰচলিতের লোতের টানে যে হালছাড়া ভাবে আত্মসমৰ্পণ করে, সেও পরাসক্ত। কেননা বাহির আমাদের অন্তরের পক্ষে পর; সে যখন কেবল অ্যাসের তাগিদে অামাদের চালিয়ে নিয়ে যায় তখন আমাদের পরাসক্ত অন্তর নিরুদ্যম হয়ে ওঠে এবং মানুষের পরে অসাধ্যসাধন করবার যে ভার অাছে সে সিদ্ধ হয় না।

 এই হিসাবে জন্তুরা এ জগতে পরাসক্ত। তারা প্ৰচলিতের ধারায় গা-ভাসান দিয়ে চলে। তারা প্ৰাকৃতিক নিৰ্বাচনের শাসনে বঁাচে মরে, এগোয় বা পিছোয়। এইজন্যেই তাদের অন্তঃকরণটা বাড়তে পারল না, কেঁটে হয়ে রইল। লক্ষ লক্ষ বৎসর ধরে মৌমাছি যে চাক তৈরি করে আসছে সেই চাক তৈরি করার একটানা বোক কিছুতেই সে কাটিয়ে বেরতে পারছে না। এতে ক’রে তাদের চাক নিখুত -মতো তৈরি হচ্ছে; কিন্তু তাদের অন্তঃকরণ এই চিরাভ্যাসের গণ্ডীর মধ্যে বন্ধ হয়ে আছে, সে আপনাকে নানা দিকে মেলে দিতে পারছে না। এই-সকল জীবের সম্বন্ধে প্ৰকৃতির যেন সাহসের অভাব দেখতে পাই। সে এদের নিজের আঁচলে ঢেকে চালায়; পাছে নিজে চলতে গেলে বিপদ বাধিয়ে বসে এই ভয়ে এদের অন্তরের চলৎশক্তিকে ছেটে রেখে দয়েছে

১৮৯