পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর কিন্তু স্থষ্টিকর্তার জীবরচনা-পরীক্ষায় মানুষের সম্বন্ধে হঠাৎ খুব একটা সাহস দেখতে পাওয়া যায়। তিনি তার অন্ত:করণটাকে বাধা দিলেন না। বাহিরে প্রাণীটিকে সর্বপ্রকারে বিবস্ত্র নিরস্ত্র দুর্বল করে এর অন্ত:করণকে ছেড়ে দেওয়া হল । এই মুক্তি পাওয়ার আনন্দে সে বলে উঠল, “আমি অসাধ্য সাধন করব। অর্থাৎ, ‘যা চিরদিন হয়ে আসছে তাই যে চিরদিন হতে থাকবে সে আমি সইব না, যা হয় না তাও হবে ।’ সেইজন্তে মানুষ তার প্রথম যুগে যখন চার দিকে অতিকায় জন্তুদের বিকট লখদস্তের মাঝখানে পড়ে গেল তখন সে হরিণের মতো পালাতে চাইল না, কচ্ছপের মতো লুকোতে চাইল না, সে অসাধ্যসাধন করলে – চকমকি পাথর কেটে কেটে ভীষণতর নখদস্তের সৃষ্টি করলে । যেহেতু জন্তুদের নখদন্ত তাদের বাহিরের দান, এইজন্তে প্রাকৃতিক নির্বাচনের পরেই এই নখদস্তের পরিবর্তন বা উন্নতি নির্ভর করে । কিন্তু মামুষের নখদন্ত তার অন্ত:করণের স্বষ্টি ; এইজন্তে সেই পাথরের বর্শাফলকের পরেই সে ভর করে রইল না, তার সমস্ত হাতিয়ার পাথরের কোঠ থেকে লোহার কোঠায় এসে পৌছল। এতে প্রমাণ হয়, মামুষের অন্ত:করণ সন্ধান করছে; যা তার চারি দিকে আছে তাতেই সে আসক্ত হয়ে নেই, যা তার হাতের কাছে নেই তাকে হাতের তলায় আনছে । পাথর আছে তার সামনে, তাতে সে সন্তুষ্ট নয় ; লোহা আছে মাটির নীচে, সেখানে গিয়ে সে ধাক্কা দেয়। পাথরকে ঘষে-মেজে তার থেকে হাতিয়ার তৈরি করা সহজ ; কিন্তু তাতেও তার মন উঠল না, লোহাকে আগুনে গলিয়ে, হাতুড়িতে পিটিয়ে, ছাঁচে ঢালাই করে যা সব চেয়ে বাধা দেয় তাকেই আপনার সব চেয়ে অমুগত করে তুললে। মামুষের অন্তঃকরণের ধর্মই হচ্ছে এই, আপনাকে খাটিয়ে কেবল যে তার সফলতা তা নয়, তার আনন্দ ; সে কেবলই উপরিতল থেকে গভীরতলে পৌছতে চায়, প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষে, সহজ থেকে কঠিনে, পরাসক্তি থেকে >为9