পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান আত্মকর্তৃত্বে, প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বিচারের ব্যবস্থায় । এমনি করে সে • জয়ী হয়েছে। কিন্তু কোনো এক দল মানুষ যদি বলে 'এই পাথরের ফল আমাদের বাপ-পিতামহের ফলা, এ ছাড়া আর যা-কিছু করতে যাব তাতে আমাদের জাত নষ্ট হবে, তা হলে একেবারে তাদের মমুঝত্বের মূলে ঘা লাগে , তা হলে যাকে তারা জাতরক্ষা বলে তা হতে পারে, কিন্তু তাদের সব চেয়ে যে বড়ো জাত মনুষ্যজাত সেইখানে তাদের কৌলীন্ত মারা যায় । আজও যারা সেই পাথরের ফলার বেশি এগোয় নি মামুব তাদের জাতে ঠেলেছে, তারা বনে জঙ্গলে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়ায়। তারা বহিরবস্থার কাছে পরাসক্ত, তারা প্ৰচলিতের . জিন-লাগামের টানে চোখে ঠুলি লাগিয়ে চলে ; তারা অস্তরের স্বরাজ পায় নি, বাহিরের স্বরাজের অধিকার থেকে তাই তারা ভ্রষ্ট। এ কথা তারা জানেই না যে, মানুষকে আপনার শক্তিতে অসাধ্যসাধন করতে হবে ; যা হয়েছে তার মধ্যে সে বদ্ধ থাকবে না, যা হয় নি তার দিকে সে এগোবে— তাল ঠুকে বুক ফুলিয়ে নয়, অন্তঃকরণের সাধনার বলে, আত্মশক্তির উদবোধনে । আজ ত্রিশ ৰংসর হয়ে গেল, যখন "সাধন।' কাগজে আমি লিখছিলুম তখন আমার দেশের লোককে এই কথাই বলবার চেষ্টা করেছি । তখন ইংরেজি-শেখ ভারতবর্ষ পরের কাছে অধিকার-ভিক্ষণর কাজে বিষম ব্যস্ত ছিল। তখন বারে বারে আমি কেবল একটি কথা বোঝাবার প্রয়াস পেয়েছি যে, মানুষকে অধিকার চেয়ে নিতে হবে না, অধিকার স্মৃষ্টি করতে হবে। কেননা মানুষ প্রধানত অস্তরের জীব, অস্তরেই সে কর্তা ; বাহিরের লাভে অস্তরে লোকসান ঘটে । আমি বলেছিলেম, অধিকারবঞ্চিত হবার স্থঃখভার আমাদের পক্ষে তেমন বোঝা নয় যেমন বোঝা আমাদের মাথার উপরে আবেদন আর নিবেদনের খালা’। তার পরে যখন আমার হাতে 'বঙ্গদর্শন’ এসেছিল S3 )