পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর তখন বঙ্গবিভাগের ছুরি-শানানের শব্দে সমস্ত বাংলাদেশ উতলা । মনের ক্ষোভে বাঙালি সেদিন ম্যাঞ্চেস্টরের কাপড় বর্জন ক’রে বোম্বাই মিলের সদাগরদের লোভটাকে বৈদেশিক ডিগ্রিতে বাড়িয়ে তুলেছিল । যেহেতু ইংরেজ-সরকারের পরে অভিমান ছিল এষ্ট বস্ত্রবর্জনের মূলে, সেইজন্তে সেই দিন এই কথা বলতে হয়েছিল ‘এছ বাহ’ । এর প্রত্যক্ষ লক্ষ্য ইংরেজ, ভারতবাসী উপলক্ষ্য ; এর মুখ্য উত্তেজনা দেশের লোরের প্রতি প্রেম নয়, বিদেশী লোকের প্রতি ক্রোধ। সে দিন দেশের লোককে এই কথা বলে সাবধান করবার দরকার ছিল যে, ভারতে ইংরেজ যে আছে এটা বাইরের ঘটনা, দেশ যে আছে এটাই আমাদের ভিতরের কথা । এই ভিতরের কথাটাই হচ্ছে চিরসত্য, আর বাইরের ব্যাপারটা মায়া । মায়াকে তত ক্ষণ অত্যন্ত বড়ো দেখায় যত ক্ষণ, রাগেই হোক ཐུ] অমুরাগেই হোক, বাইরের দিক থেকে তার প্রতি সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে তাকিয়ে থাকি । তেড়ে গিয়ে তার পায়ে দাত বসিয়ে দেওয়া সেও একটা তীব্র আসক্তি, আর ভক্তিতে তার পা জড়িয়ে ধরা সেও তথৈবচ ; তাকে চাই নে বললেও তার ধ্যানে আমাদের সমস্ত হৃদয় রক্তবর্ণ হয়ে ওঠে, আর চাই বললে তো কথাই নেই । মায়া জিনিসট। অন্ধকারের মতো ; বাইরের দিক থেকে কলের গাড়ি চালিয়েও তাকে অতিক্রম করতে পারি নে, তাকে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে চাইলে সাত’ সমুদ্র তেরো নদী শুকিয়ে যাবে । সত্য আলোর মতে, তার শিখাটা জলবা মাত্র দেখা যায়, মায়া নেই । এইজন্তেই শাস্ত্রে বলেছেন,— স্বল্পমপ্যস্ত ধর্মস্ত ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ । ভয় হচ্ছে মনের নাস্তিকতা, তাকে না’এর দিক থেকে নিকেশ করা যায় না ; উপস্থিতমতো তার একটা কারণ গেলেও রক্তবীজের মতো আর-একটা কারণরূপে সে জন্ম নেয়। ধর্ম হচ্ছে সত্য, লে মনের আস্তিকতা ; তার অল্পমাত্র আবির্ভাবে ই প্রকাও না’কে একেবারে মূলে * పె*