পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর হবে পরের হাত থেকে নয়, নিজের নৈষ্কর্ম্য থেকে, ঔদাসীন্ত থেকে দেশের যে-কোনো উন্নতি-সাধনের জন্তে যে উপলক্ষে আমরা ইংরেজরাজসরকারের দ্বারস্থ হয়েছি সেই উপলক্ষেই আমাদের নৈষ্কৰ্য্যকে নিবিড়তর করে তুলেছি মাত্র। কারণ, ইংরেজ-রাজসরকারের কীর্তি আমাদের কীর্তি নয় ; এইজন্ত বাহিরের দিক থেকে সেই কীর্তিতে আমাদের যতই উপকার হোক, ভিতরের দিক থেকে তার দ্বারা আমাদের দেশকে আমরা হারাই, অর্থাৎ আত্মার মূল্যে সফলতা পাই। যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন— ন বা অরে পুত্রস্ত কামায় পুত্র: প্রিয়ো ভবতি । আত্মনস্তু কামায় পুত্র: প্রিয়ো ভবতি । দেশ সম্বন্ধেও এই কথা খাটে। দেশ আমারই আত্মা, এইজন্তই দেশ আমার প্রিয়— এ কথা যখন জানি তখন দেশের স্বষ্টিকার্যে পরের মুখাপেক্ষ করা সহই হয় না । আমি সেদিন দেশকে যে কথা বলবার চেষ্টা করেছিলুেম সে বিশেষকিছু নতুন কথা নয় এবং তার মধ্যে এমন কিছু ছিল না যাতে স্বদেশহিতৈষীর কানে সেটা কটু শোনায় । কিন্তু, আর-কারও মনে না থাকতে পারে, আমার স্পষ্টই মনে আছে যে, আমার এই-সকল কথায় দেশের লোক বিষম ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। যারা কটুভাষা-ব্যবসায়ী সাহিত্যিক গুও আমি তাদের কথা বলছি নে, কিন্তু গণ্যমান্ত এবং শিষ্টশাস্ত ব্যক্তিরাও আমার সম্বন্ধে ধৈর্য রক্ষা করতে পারেন নি । এর দুটি মাত্র কারণ— প্রথম ক্রোধ, দ্বিতীয় লোভ । ক্রোধের তৃপ্তিসাধন হচ্ছে এক রকমের ভোগমুখ ; সেদিন এই ভোগমুখের মাৎলামিতে আমাদের বাধা অতি অল্পই ছিল— আমরা মনের আনন্দে কাপড় পুড়িয়ে বেড়াচ্ছি, পিকেট করছি, যারা আমাদের পথে চলছিল না তাদের পথে কাটা দিচ্ছি এবং ভাষায় আমাদের কোনো আক্র >分8