পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান। রাখছি নে। এই-সকল অমিতাচারের কিছুকাল পরে একজন জাপানি আমাকে এক দিন বলেছিলেন, "তোমরা নিঃশব্দে দৃঢ় এবং গুঢ় ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে পার না কেন ? কেবলই শক্তির বাজে খরচ করা তো উদ্দেপ্তসাধনের সন্ধুপায় নয়।’ তার জবাৰে সেই জাপানিকে আমার বলতে হয়েছিল যে, উদ্দেশ্বসাধনের কথাটাই যখন আমাদের মনে উজ্জ্বল থাকে তখন মানুষ স্বভাবতই আত্মসংযম ক’রে নিজের সকল শক্তিকেই সেই দিকে নিযুক্ত করে। কিন্তু ক্রোধের তৃপ্তিসাধন যখন মত্ততার সপ্তকে সপ্তকে উদ্বেগুসাধনকে ছাড়িয়ে উঠতে থাকে তখন শক্তিকে খরচ করে দেউলে হতে আমাদের বাধা থাকে না । যাই হোক, সে দিন ঠিক যে সময়ে বাঙালি কিছু কালের জন্তে, ক্রোধতৃপ্তির সুখভোগে বিশেষ বিঘ্ন পাচ্ছিল না, সমস্তই যেন একটা আশ্চর্য স্বপ্নের মতো বোধ হচ্ছিল, সেই সময়ে তাকে অন্ত পথের কথা বলতে গিয়ে আমি তার ক্রোধের ভাজন হয়েছিলেম । তা ছাড়া আরো একটি কথা ছিল, সে হচ্ছে লোভ । ইতিহাসে সকল জাতি দুর্গম পথ দিয়ে দুৰ্লভ জিনিস পেয়েছে, আমরা তার চেয়ে অনেক সস্তায় পাব— হাত-জোড়করা ভিক্ষের দ্বারা নয়, চোখ-রাঙানে ভিক্ষের দ্বারা পাব, এই ফন্দির আনন্দে সে দিন দেশ মেতেছিল। ইংরেজ দোকানদার বাকে বলে reduced price sale, সে দিন যেন ভাগ্যের হাটে বাঙালির কপালে পোলিটিকাল মালের সেই রকম সস্তা দামের মৌসুম পড়েছিল। যার সম্বল কম, সস্তার নাম শোনব। মাত্র সে এত বেশি খুশি হয়ে ওঠে যে, মালট। যে কী আর তার কী অবস্থা তার খোজ রাখে না, আর যে ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে তেড়ে মারতে যায় । মোট কথা, সে দিনও আমাদের লক্ষ্য ছিল, ধ্যান ছিল ঐ বাইরের মায়াটা নিয়ে । তাই তখনকার কালের একজন নেতা বলেছিলেন, ‘আমার এক হাত ইংরেজ সরকারের টুটিতে, আর-এক হাত তার পায়ে। অর্থাৎ কোমো হাতই >为够