পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১ কালাম্ভর মাছুষের মন ৰ’লে জিনিসের কোনোই দরকার হয় না, যা কেবলমাত্র চিন্তাহীন অভ্যাসনিষ্ঠতার কাজ, আমাদের সংসারযাত্রার পনেরো আনা কাজই সেই প্রণালীতে চালিত। ষে মানুষ সকল বিষয়েই দাসের প্রতিনির্ভর করে চলে তার ষে রকম পঙ্গুত, যারা বাহ আচারের দ্বারাই নিয়ত চালিত তাদেরও সেই রকম। কেননা পূর্বেই বলেছি, অন্তরের মামুবই প্রভু, সে যখন একান্তভাবে বাহ প্রথার পরাসক্ত জীব হয়ে ওঠে তখন তার দুৰ্গতির সীমা থাকে না । আচারে-চালিত মানুষ কলের পুতুল, বাধ্যতার চরম সাধনায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। পরতন্ত্রতার কারখানাঘরে সে তৈরি ; এইজন্তে এক চালকের হাত থেকে তাকে নিস্কৃতি দিতে গেলে আর-এক চালকের হাতে তাকে সমর্পণ করতে হয় । পদার্থবিদ্যায় যাকে ইনশিয়া বলে, যে মানুষ তারই একাস্ত সাধনাকে পবিত্রত ব’লে অভিমান করে তার স্থাবরতাও যেমন জঙ্গমতাও তেমন, উভয়েই তার নিজের কর্তৃত্ব নেই। অন্ত:করণের ষে জড়ত্ব সর্বপ্রকার দাসত্বের কারণ, তার থেকে মুক্তি দেবার উপায় চোখে-ঠুলি-দেওয়া বাধ্যতাও নয়, কলের পুতুলের মতো বাহাদুষ্ঠানও নয়। বঙ্গবিভাগের আন্দোলনের পরে এবার দেশে যে আন্দোলন উপস্থিত হয়েছে তার পরিমাণ আরো অনেক বড়ে ; সমস্ত ভারতবর্ষ জুড়ে তার প্রভাব । বহু দিন ধরে আমাদের পোলিটিকাল নেতারা ইংরেজি-পড়া দলের বাইরে ফিরে তাকান নি, কেননা তাদের দেশ ছিল ইংরেজিইতিহাস-পড়া একটা পুথিগত দেশ। সে দেশ ইংরেজি ভাষার বাষ্পরচিত একটা মরীচিকা, তাতে বার্ক, মাড স্টোন ম্যাটুলীনি গারিবালুভির অস্পষ্ট মূর্তি ভেসে বেড়াত। তার মধ্যে প্রকৃত আত্মত্যাগ বা দেশের মানুষের প্রতি যথার্থ দরদ দেখা যায় নি। এমন সময়ে মহাত্মা গান্ধি এসে দাড়ালেন ভারতের বহুকোটি গরিবের দ্বারে— তাদেরই আপন বেশে, এবং তাদের সঙ্গে কথা কইলেন তাদের আপন ভাষায় । এ & о о