পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান একটা সত্যকার জিনিস, এর মধ্যে পুথির কোনো নজির নেই। এইজন্তে তাকে যে মহাত্মা নাম দেওয়া হয়েছে এ তার সত্য নাম । কেননা, ভারতের এত মানুষকে আপনার আত্মীয় করে আর কে দেখেছে ? আত্মার মধ্যে যে শক্তির ভাণ্ডার আছে তা খুলে যায় সত্যের স্পর্শমাত্রে। সত্যকার প্রেম ভারতবাসীর বহু দিনের রুদ্ধ দ্বারে যে-মুহূর্তে এসে দাড়ালে অমনি তা খুলে গেল। কারও মনে আর কার্পণ্য রইল না, অর্থাৎ সত্যের স্পর্শে সত্য জেগে উঠল। চাতুরি দ্বারা যে রাষ্ট্রনীতি চালিত হয় সে নীতি বন্ধ্যা, অনেক দিন থেকে এই শিক্ষার আমাদের দরকার ছিল । সত্যের বে কী শক্তি, মহাত্মার কল্যাণে আজ তা আমরা প্রত্যক্ষ দেখেছি ; কিন্তু চাতুরি হচ্ছে ভীরু ও দুর্বলের সহজ ধর্ম, সেটাকে ছিন্ন করতে হলে তার চামড়া কেটে ছিন্ন করতে হয়। সেইজন্তে আজকের দিনেও দেশের অনেক বিজ্ঞ লোকেই মহাত্মার চেষ্টাকেও নিজেদের পোলিটিকাল জুয়োখেলার একটা গোপন চালেরই সামিল করে নিতে চান। মিথ্যায় জীর্ণ তাদের মল এই কথাটা কিছুতেই বুঝতে পারে না যে, প্রেমের দ্বারা দেশের হৃদয়ে এই-ষে প্রেম উদবেলিত হয়েছে এট। একটা অবাস্তর বিষয় নয়— এইটেই মুক্তি, এইটেই দেশের আপনাকে পাওয়া ; ইংরেজ দেশে আছে কি নেই এর মধ্যে সে কথার কোনো জায়গাই নেই। এই প্রেম হল স্বপ্রকাশ, এই হচ্ছে ই ; কোনো না'এর সঙ্গে এ তর্ক করতে যায় না, কেনন তর্ক করবার দরকারই থাকে না । প্রেমের ডাকে ভারতবর্ষের হৃদয়ের এই-ষে আশ্চর্য উদবোধন, এর কিছু মুর সমুদ্রপারে আমার কানে গিয়ে পৌঁচেছিল। তখন ৰড়ে আনন্দে এই কথা আমার মনে হয়েছিল যে, এইবার এই উদবোধনের দরবারে আমাদের সকলেরই ভাক পড়বে, ভারতবাসীর চিত্তে শক্তির যে বিচিত্র রূপ প্রচ্ছন্ন আছে সমস্তই প্রকাশিত হৰে। কারণ, জামি २ ● 9