পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর একেই আমার দেশের মুক্তি বলি ; প্রকাশই হচ্ছে মুক্তি। ভারতবর্ষে এক দিন বুদ্ধদেব সর্বভূতের প্রতি মৈত্রীমন্ত্র নিজের সত্যসাধনার ভিতর দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন ; তার ফল হয়েছিল এই যে, সেই সত্যের প্রেরণায় ভারতের মনুষ্যত্ব শিল্পকলায় বিজ্ঞানে ঐশ্বর্যে পরিব্যক্ত হয়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রশাসনের দিক থেকে সে দিনও ভারত বারে বারে এক হবার ক্ষণিক প্রয়াসের পর বারে বারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল ; কিন্তু তার চিত্ত মুপ্তি থেকে, অপ্রকাশ থেকে মুক্তিলাভ করেছিল। এই মুক্তির জোর এত যে, সে আপনাকে দেশের কোনো ক্ষুদ্র সীমায় বদ্ধ করে রাখতে পারে নি, সমুদ্রমরুপারেও যে দূরদেশকে সে স্পর্শ করেছে তারই চিত্তের ঐশ্বর্যকে উদঘাটন করেছে। অাজকের দিনের কোনো বণিক, কোনো সৈনিক এ কাজ করতে পারে নি । তারা পৃথিবীকে যেখানেই স্পর্শ করেছে সেইখানেই বিরোধ পীড়া এবং অপমান জাগিয়েছে, সেইখানেই বিশ্ব প্রকৃতির ঐ নষ্ট করে দিয়েছে। কেন ? কেননা লোভ সত্য নয়, প্রেমই সত্য। এইজন্ত প্রেম যখন মুক্তি দেয় সে একেবারে ভিতরের দিক থেকে । কিন্তু লোভ যখন স্বাতন্ত্র্যের জন্তে চেষ্টা করে তখন সে জবৰ্দ্দস্তির দ্বারা নিজের উদ্দেশ্য সাধন করতে অস্থির হয়ে ওঠে । বঙ্গবিভাগের দিনে এইটে আমরা লক্ষ্য করেছি – সেদিন গরিবদের আমরা ত্যাগন্ধুঃখ স্বীকার করতে বাধ্য করেছি প্রেমের দ্বারা নয়, বাইরে থেকে নানা প্রকারে চাপ দিয়ে। তার কারণ, লোভ অল্প সময়ের মধ্যে একটা বিশেষ সংকীর্ণ ফললাভের চেষ্টা করে ; প্রেমের যে ফল সে এক দিনের নয়, অল্প দিনের জন্তও নয়, সে ফলের সার্থকতা আপনার মধ্যেই । এত দিন পরে আমার দেশে সেই আনন্দময় মুক্তির হাওয়া ৰইছে, এইটেই আমি কল্পনা করে এলেছিলুম। এসে একটা জিনিস দেখে আমি হতাশ হয়েছি। দেখছি, দেশের মনের উপর বিষম একট চাপ । रै ● २