পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান বাইরে থেকে কিসের একটা তাড়নায় সবাইকে এক কথা বলতে, এক কাজ করাতে ভয়ংকর তাগিদ দিয়েছে । আমি যখন প্রশ্ন করতে যাই, বিচার করতে যাই, আমার হিতৈষীরা ব্যাকুল হয়ে আমার মুখ চাপা দিয়ে বলেন, ‘আজ তুমি কিছু বোলো না।’ দেশের হাওয়ায় আজ প্রবল একটা উৎপীড়ন আছে– সে লাঠি-সড়কির উৎপীড়ন নয়, তার চেয়ে ভয়ংকর, সে অলক্ষ্য উৎপীড়ন । বর্তমান প্রচেষ্টা সম্বন্ধে যাদের মনে কিছুমাত্র সংশয় আছে তারা সেই সংশয় অতি ভয়ে ভয়ে, অতি সাবধানে প্রকাশ করলেও পরমুহুর্তেই তার বিরুদ্ধে একটা শাসন ভিতরে ভিতরে উদ্যত হয়ে ওঠে। কোনো একটি খবরের কাগজে এক দিন কাপড় পোড়ানোর সম্বন্ধে অতি মৃদুমন্দ মধুর কণ্ঠে একটুখানি আপত্তির আভাসমাত্র প্রকাশ পেয়েছিল ; সম্পাদক বলেন, তার পরদিনই পাঠকমণ্ডলীর চাঞ্চল্য তাকে চঞ্চল করে তুললে । যে আগুনে কাপড় পুড়েছে সেই আগুনে তার কাগজ পুড়তে কত ক্ষণ ? দেখতে পাচ্ছি, এক পক্ষের লোক অত্যন্ত ব্যস্ত, আর-এক পক্ষের লোক অত্যন্ত ত্রস্ত । কথা উঠেছে সমস্ত দেশের বুদ্ধিকে চাপা দিতে হবে, বিস্তাকেও । কেবল বাধ্যতাকে অঁাকড়ে ধরে থাকতে হবে । কার কাছে বাধ্যতা ? মন্ত্রের কাছে, অন্ধবিশ্বাসের কাছে । কেন বাধ্যতা ? আবার সেই রিপুর কথা এসে পড়ে, সেই লোভ। অতি সত্বর অতিছুর্লভ ধন অতি সস্তায় পাবার একটা আশ্বাস দেশের সামনে জাগছে । এ যেন সন্ন্যাসীর মন্ত্রশক্তিতে সোনা ফলাবার আশ্বাস । এই আশ্বাসের প্রলোভনে মানুষ নিজের বিচারবুদ্ধি অনায়াসে জলাঞ্জলি দিতে পারে এবং অন্ত যারা জলাঞ্জলি দিতে রাজি হয় না তাদের পরে বিষম ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। বাহিরের স্বাতন্ত্র্যের নামে মামুষের অস্তরের স্বাতন্ত্র্যকে এই রকমে বিলুপ্ত করা সহজ হয় । সকলের চেয়ে আক্ষেপের .বিষয় এই যে, সকলেই যে এই আশ্বাসে সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে তা নয় ২ e৩