পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


कोङन्तोसुद्ध কিন্তু তারা বলে, এই প্রলোভনে দেশের এক দল লোককে দিয়ে একটা বিশেষ উদ্দেশু সাধন করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ‘সত্যমেব জয়তে নামৃতম্’ এটা যে ভারতের কথা সে ভারত এদের মতে স্বরাজ পেতেই পারে না। আরো মুশকিল এই যে, যে লাভের দাবি করা হচ্ছে তার একটা নাম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংজ্ঞ। দেওয়া হয় নি। ভয়ের কারণটা অস্পষ্ট হলে সে যেমন অতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে, লোভের বিষয়টা অস্পষ্ট হলে তারও প্রবলতা বেড়ে যায়— কেননা তার মধ্যে কল্পনার কোনো বাধা থাকে না এবং প্রত্যেক লোকেই তাকে সম্পূর্ণ নিজের মনের মতো ক’রে গড়ে নিতে পারে । জিজ্ঞাসা দ্বারা তাকে চেপে ধরতে গেলে সে এক আড়াল থেকে আর-এক আড়ালে অতি সহজেই গা ঢাকা দেয়। এমনি করে এক দিকে লোভের লক্ষ্যটাকে অনির্দিষ্টতার দ্বারা অত্যন্ত বড়ো করে তোলা হয়েছে, অন্ত দিকে তার প্রাপ্তির সাধনাকে সময়ে এবং উপায়ে অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এমনভাবে লোকের মনকে মোহাবিষ্ট করে তার পরে যখন তাকে বলা হয় তোমার বুদ্ধিবিদ্যা প্রশ্নবিচার সমস্ত দাও ছাই করে, কেবল থাক তোমার বাধ্যতা’, তখন সে রাজি হতে বিলম্ব করে না । কিন্তু কোনোএকটা বাহাদুষ্ঠানের দ্বারা অদূরবতী কোনো-একটা বিশেষ মাসের বিশেষ তারিখে স্বরাজ লাভ হবে, এ কথা যখন অতি সহজেই দেশের অধিকাংশ লোক বিনা তর্কে স্বীকার করে নিলে এবং গদা হাতে সকল তর্ক নিরস্ত করতে প্রবৃত্ত হল, অর্থাৎ নিজের বুদ্ধির স্বাধীনতা বিসর্জন দিলে এবং অন্তের বুদ্ধির স্বাধীনতা হরণ করতে উদ্যত হল, তখন সেটাই কি একটা বিষম ভাবনার কথা হল না ? এই ভূতকেই ঝাড়াবার জন্তে কি আমরা ওঝার খোজ করি নে ? কিন্তু, স্বয়ং ভূতই যদি ওঝা হয়ে দেখা দেয় তা হলেই তো বিপদের আর সীমা রইল না। মহাত্মা তার সত্যপ্রেমের দ্বারা ভারতের হৃদয় জয় করেছেন, সেখানে ३० 8