পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান আমরা সকলেই তার কাছে হার মানি । এই সত্যের শক্তিকে আমরা প্রত্যক্ষ করলুম এজন্ত আজ আমরা কৃতার্থ। চিরস্থন সত্যকে আমরা পুথিতে পড়ি, কথায় বলি, যে ক্ষণে তাকে আমরা সামনে দেখি সে আমাদের পুণ্যক্ষণ। বহু দিনে অকস্মাৎ আমাদের এই সুযোগ ঘটে। কনগ্রেস আমরা প্রতিদিন গড়তে পারি, প্রতিদিন ভাঙতে পারি, ভারতের প্রদেশে প্রদেশে ইংরেজি ভাষায় পোলিটিকাল বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানোও আমাদের সম্পূর্ণ সাধ্যায়ভ, কিন্তু সত্যপ্রেমের যে সোনার কাঠিতে শত বৎসরের সুপ্ত চিত্ত জেগে ওঠে সে তো আমাদের পাড়ার স্তাকরার দোকানে গড়াতে পারি নে। যার হাতে এই দুর্লভ জিনিস দেখলুম তাকে আমরা প্ৰণাম করি । i কিন্তু, সত্যকে প্রত্যক্ষ করা সত্ত্বেও সত্যের প্রতি আমাদের নিষ্ঠা যদি দৃঢ় না হয় তা হলে ফল হল কী ? প্রেমের সত্যকে প্রেমের দিকে যেমন মানি, বুদ্ধির সত্যকে বুদ্ধির দিকে তেমনি আমাদের মানতে হবে। কন্‌গ্রেস প্রভৃতি কোনো রকম বাহাদুষ্ঠানে দেশের হৃদয় জাগে নি, মহং অস্তরের অকৃত্রিম প্রেমের স্পর্শে জাগল। আস্তরিক সত্যের এই প্রভাব যখন আমরা আজ এমন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, তখন স্বরাজলাভের বেলাতেই কি সেই সত্যকে আর আমরা বিশ্বাস করব না ? উদবোধনের পালায় যাকে মানলুম, অনুষ্ঠানের পালায় তাকে বিসর্জন দিয়ে বলৰ ? মনে করে, আমি বীণার ওস্তাদ খুঁজছি। পূর্বে পশ্চিমে আমি নানা লোককে পরীক্ষা করে দেখলুম, কিন্তু হৃদয়ের তৃপ্তি হল না। তার শব্দ করে খুব, তারা কৌশল জানে বিস্তর, তারা রোজগার করে যথেষ্ট, কিন্তু তাদের বাছাছুরিতে মনে প্রশংসা জাগে, প্রেম জাগে না । অবশেষে হঠাৎ একজনকে খুঁজে পাওয়া গেল, তিনি তার তারে ছুটি-চারটি মীড় লাগাবা মাত্র অন্তরের আনন্দ-উৎসের মুখে এত দিন যে পাথর চাপা ছিল সেট যেন এক মুহুর্তে গেল গ’লে। এর কারণ কী ? এই ওস্তাদের R 6 &