পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান অস্তঃকরণকে সকল দিক থেকে পূর্ণ উদ্যমে জাগতে হবে। তাতে দেশের লোকের জিজ্ঞাসাবৃত্তি যেন সর্বদ নির্মল ও নিরভিভূত থাকে, কোনো গুঢ় বা প্রকাশু শাসনের দ্বারা সকলের বুদ্ধিকে যেন ভীরু এবং নিশ্চেষ্ট করে তোলা না হয়। এই-যে দেশের বিচিত্র শক্তিকে তলব দেওয়া এবং তাকে নিজের নিজের কাজে লাগানো, এ পারে কে ? সকল ডাকে তো দেশ সাড়া দেয় না, পূর্বে তো বারম্বার তার পরীক্ষা হয়ে গেছে। দেশের সকল শক্তিকে দেশের স্বষ্টিকার্যে আজ পর্যস্ত কেউ যোগযুক্ত করতে পারেন নি ব’লেই তো এত দিন আমাদের সময় বয়ে গেল। তাই এত কাল অপেক্ষা করে আছি, দেশের লোককে ডাক দেবার যার সত্য অধিকার আছে তিনিই সকলকে সকলের আত্মশক্তিতে নিযুক্ত করে দেবেন। এক দিন ভারতের তপোবনে আমাদের দীক্ষাগুরু তার সত্যজ্ঞানের অধিকারে দেশের সমস্ত ব্ৰহ্মচারীদের ডেকে বলেছিলেন— যখাপ: প্রবতায়স্তি যথা মাসা অহর্জরম্। এবং মাং ব্ৰহ্মচারিণো ধাত আয়ন্ধ সর্বতঃ স্বাহা ॥ জলসকল যেমন নিম্নদেশে গমন করে, মাসসকল যেমন সংবৎসরের দিকে ধাবিত হয়, তেমনি সকল দিক থেকে ব্ৰহ্মচারিগণ আমার নিকটে আমুন, স্বাহা । সেদিনকার সেই সত্যদীক্ষার ফল আজও জগতে অমর হয়ে আছে এবং তার আহবান এখন ও বিশ্বের কানে বাজে । আজ আমাদের কর্মগুরু তেমনি করেই দেশের সমস্ত কর্মশক্তিকে কেন আহবান করবেন না ? কেন বলবেন না ‘আয়ত্ত্ব সর্বত: স্বাহা, তারা সকল দিক থেকে আমুক’ ? দেশের সকল শক্তির জাগরণেই দেশের জাগরণ, এবং সেই সর্বতোভাবে জাগরণেই মুক্তি। মহাস্থাজির কণ্ঠে বিধাতা ডাকবার শক্তি দিয়েছেন, কেননা তার মধ্যে সত্য আছে ; অতএব এই তো ছিল আমাদের শুভ অবসর। কিন্তু তিনি ডাক দিলেন একটিমাত্র সংকীর্ণ ক্ষেত্রে। তিনি বললেন, ‘কেবলমাত্ৰ সকলে মিলে সুতো কাটো, কাপড় ૨૦ ૧