পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান একটি কথা উঠেছে এই যে, ভারতে শতকরা আশিজন লোক চাষ করে এবং তারা বছরে ছয় মাস বেকার থাকে, তাদের স্বত্য কাটতে উৎসাহিত করবার জন্তে কিছু কাল সকল ভদ্রলোকেরই চরকা ধরা দরকার। প্রথম আবশ্যক হচ্ছে যথোচিত উপায়ে তথ্যাঙ্গুসন্ধান দ্বারা এই কথাটি প্রতিপন্ন করা। অর্থাৎ, কী পরিমাণ চাষ কত দিন পরিমাণ বেকার থাকে। যখন চাষ বন্ধ তখন চাষার কোনো উপায়ে যে পরিমাণ জীবিকা অর্জন করে, সুতা কাটার দ্বারা তার চেয়ে বেশি অর্জন করবে কি না। চাব ব্যতিরেকে জীবিকার একটিমাত্র উপায়ের স্বারা সমস্ত কৃষাণকে বদ্ধ করা দেশের কল্যাণের পক্ষে উচিত কি না, সে সম্বন্ধেও সন্দেহ আছে। কিন্তু মূল কথা এই যে, কারও মুখের কথায় কোনো অনুমানমাত্রের উপর নির্ভর ক’রে আমরা সর্বজনীন কোনো পন্থা অবলম্বন করতে পারব না ; আমরা বিশ্বাসযোগ্য প্রণালীতে তথ্যামুলঙ্কান দাবি করি । তার পরে উপায়ের যথাযোগ্যতা সম্বন্ধে বিছার করা সম্ভবপর। আমাকে কেউ কেউ বলেছেন, দেশের চিত্তশক্তিকে আমরা তো চিরদিনের জন্তে সংকীর্ণ করতে চাই নে, কেবল অতি অল্প কালের জন্তে । কেনই বা অল্প কালের জন্তে ? যেহেতু এই অল্প কালের মধ্যে এই উপায়ে আমরা স্বরাজ পাব ? তার যুক্তি কোথায় ? স্বরাজ তো কেবল নিজের কাপড় নিজে জোগানো নয়। স্বরাজ তো একমাত্র আমাদের বস্ত্রস্বচ্ছলতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয় । তার যথার্থ ভিত্তি আমাদের মনের উপর, সেই মন তার বহুধাশক্তির দ্বারা এবং সেই আত্মশক্তির উপর আস্থা দ্বারা স্বরাজ স্থষ্টি করতে থাকে। এই স্বরাজস্থষ্টি কোনো দেশেই তো শেষ হয় নি; সকল দেশেই কোনো না কোনো অংশে লোভ বা মোহের প্ররোচনায় বন্ধনদশা থেকে গেছে। কিন্তু, সেই ৰন্ধনদশার কারণ মামুষের চিত্তে । সে-সকল দেশে নিরস্তর এই চিত্তের উপর দাবি করা > 8 3 е?