পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


兽 হচ্ছে। আমাদের দেশেও সেই চিত্তের বিকাশের উপরেই স্বরাজ দাড়াতে পারবে । তার জন্তে কোনো বাহ ক্রিয়া, বাহ ফল নয়, জ্ঞান বিজ্ঞান চাই। দেশের চিত্তপ্রতিষ্ঠিত এই স্বরাজকে অল্পকাল কয়েক দিন চরকা কেটে আমরা পাৰ, এর যুক্তি কোথায় ? যুক্তির পরিবর্তে উক্তি তো কোনোমতেই চলবে না। মামুষের মুখে যদি আমরা দৈববাণী শুনতে আরম্ভ করি, তা হলে আমাদের দেশে যে হাজার রকমের মারাত্মক উপসর্গ আছে এই দৈববাণী ষে তারই মধ্যে অন্ততম এবং প্রবলতম হয়ে উঠবে। একবার যদি দেখা যায় যে, দৈববাণী ছাড়া আর-কিছুতেই আমাদের দেশ নড়ে না, তা হলে আশু প্রয়োজনের গরজে সকালে সন্ধ্যায় দৈববাণী বানাতে হবে, অন্ত সকল রকম বাণীই নিরস্ত হয়ে যাবে। যেখানে যুক্তির অধিকার সেখানে উক্তি দিয়ে যাদের ভোলাতে হবে, তাদের পক্ষে, যেখানে আত্মার অধিকার সেখানে কোনো না কোনো কর্তার আসন পড়বেই। তারা স্বরাজের গোড়া কেটে বসে আছে, আগায় জল ঢেলে কোনো ফল হবে না । এ কথা মানছি, আমাদের দেশে দৈববাণী, দৈব ঔষধ, বাহ ব্যাপারে দৈবক্রিয়া, এ-সবের প্রভাব খুবই বেশি ; কিন্তু সেইজন্তেই আমাদের দেশে স্বরাজের ভিতপত্তন করতে হলে দৈববাণীর আসনে বিশেষ করে বুদ্ধির বাণীকে পাকা করে বসাতে হবে। কেননা, আমার পূর্বের প্রবন্ধে বলেছি, দৈব স্বয়ং আধিভৌতিক রাজ্যে বুদ্ধির রাজ্যাভিষেক করেছেন । তাই আজ বাইরের বিশ্বে তারাই স্বরাজ পাবে এবং তাকে রক্ষণ করতে পারবে যারা আত্মবুদ্ধির জোরে আত্মকর্তৃত্বের গৌরব উপলব্ধি করতে পারে, যারা সেই গৌরবকে কোনো লোতে কোনো মোহে পরের পদানত করতে চায় না। এই-ষে আজ বস্ত্রাভাবে লজ্জাকাতরা মাতৃভূমির প্রাঙ্গণে রাশীকৃত ক’রে কাপড় পোড়ানো চলছে, কোন বাণীতে দেশের কাছে আজ তার তাগিদ আসছে ? সে কি ঐ দৈববাণীতে নয় ? কাপড় ব্যবহার বা বর্জন ই ১০