পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান ব্যাপারে অর্থশান্ত্রিক তত্ত্বের ঘনিষ্ঠ যোগ আছে, এ সম্বন্ধে সেই তত্ত্বের ভাষাতেই দেশের সঙ্গে কথা কইতে হবে ; বুদ্ধির ভাবা মান্ত করা যদি বহু দিন থেকে দেশের অভ্যাসবিরুদ্ধ হয়, তবে আর-সব ছেড়ে দিয়ে ঐ অনভ্যাসের সঙ্গেই লড়াই করতে হবে। কেননা এই অনভ্যাসই আমাদের পক্ষে গোড়ায় গলদ, original sin । সেই গলদটারই থাতিরে, সেই গলদকেই প্রশ্রয় দিয়ে আজ ঘোষণা করা হয়েছে, ‘বিদেশী কাপড় অপবিত্র, অতএব তাকে দগ্ধ করো। অর্থশাস্ত্রকে বহিস্কৃত করে তার জায়গায় ধর্মশাস্ত্রকে জোর করে টেনে আনা হল। অপবিত্র কথাটা ধর্মশাস্ত্রের কথা, অর্থের নিয়মের উপরের কথা । মিথ্যাকে বর্জন করতে হবে কেন, মিথ্যা অপবিত্র কেন, তার দ্বারা আমাদের প্রয়োজন সিদ্ধ হয় না বা নষ্ট হয় ব’লেই যে তা নয়। হোক বা না হোক, তার দ্বারা আমাদের আত্মা মলিন হয় । অতএব এ ক্ষেত্রে অর্থশাস্ত্র ব! রাষ্ট্রশস্ত্রের কথা খাটে না, এখানে ধর্মশাস্ত্রেরই বাণী প্রবল। কিন্তু, কোনো কাপড় পরা বা না-পরার মধ্যে যদি কোনো ভুল থাকে তবে সেটা অৰ্থতত্ত্বের বা স্বাস্থ্যতত্ত্বের বা সৌন্দৰ্যতত্ত্বের ভুল, এটা ধর্মতত্ত্বের ভুল নয়। এর উত্তরে কেউ কেউ বলেন, যে ভুলে দেহমনের দুঃখ আনয়ন করে সেইটেই অধৰ্ম । আমি তার উত্তরে এই বলি, ভুলমাত্রেই ছঃখ আছে— জিয়োমেটুির ভূলে রাস্তা খারাপ হয়, ভিত বাকা হয়, সাকো-নির্মাণে এমন গলদ ঘটে ষে তার উপর রেলগাড়ি চললে ভয়ংকর দুর্ঘটনা অবশুম্ভাবী । কিন্তু, এই ভুলের সংশোধন ধর্মশাস্ত্রের মতে হয় না। অর্থাৎ, ছেলেরা যে খাতায় জিয়োমেটির ভুল করে, অপবিত্র ব’লে সেই খাতা নষ্ট করে এ ভুলের সংশোধন হয় না ; জিয়োমেট্রি রই সত্য নিয়মে সেই খাতাকে সংশোধন করতে হবে। কিন্তু মাস্টারমশায়ের মনে এ কথা উঠতে পারে যে, ভুলের খাতাকে অপবিত্র যদি না বলি তা ছলে এরা 象》>