পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর ভুলকে ভুল বলে গণ্য করবে না । তা যদি সত্য হয়, তা হলে অন্ত-সব কাজ ছেড়ে সকল প্রকার উপায়ে এই চিত্তগত দোষকে সংশোধন করতে হবে, তবেই এ ছেলেরা মানুষ হতে পারবে । কাপড় পোড়ানোর হুকুম আজ আমাদের পরে এসেছে। সেই হুকুমকে হুকুম ব’লে আমি মানতে পারব না ; তার প্রথম কারণ হচ্ছে এই যে, চোখ বুজে হুকুম মানার বিষম বিপত্তি থেকে দেশকে উদ্ধার করবার জন্তে আমাদের লড়তে হবে— এক হুকুম থেকে আর-এক হুকুমে তাকে ঘুরিয়ে হুকুমসমুদ্রের সাত ঘাটে তাকে জল খাইয়ে মারতে পারব না। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে এই যে, যে কাপড় পোড়ানোর আয়োজন চলছে সে আমার কাপড় নয়, বস্তুত দেশবাসীদের মধ্যে যাদের আজ কাপড় নেই এ কাপড় তাদেরই। ও কাপড় আমি পোড়াবার কে ? যদি তারা বলে ‘পোড়াও', তা হলে অন্তত আত্মঘাতীর পরেই আত্মহত্যার ভার দেওয়া হয়, তাকে বধ করবার ভার আমাদের উপর পড়ে না । যে মানুষ ত্যাগ করছে তার অনেক কাপড় আছে আর যাকে জোর করে ত্যাগছুঃখ ভোগ করাচ্ছি কাপড়ের অভাবে সে ঘরের বার হতে পারছে না । এমনতরো জবৰ্দ্দস্তির প্রায়শ্চিত্তে পাপক্ষালন হয় না । বার বার বলেছি, আবার বলব, বাহ ফলের লোভে আমরা মনকে খোয়াতে পারব না। যে কলের দৌরাত্ম্যে সমস্ত পৃথিবী পীড়িত মহাত্মাজি সেই কলের সঙ্গে লড়াই করতে চান, এখানে আমরা তার দলে । কিন্তু, যে মোহমুগ্ধ মন্ত্ৰমুগ্ধ অন্ধ বাধ্যতা আমাদের দেশের সকল দৈন্ত ও অপমানের মূলে, তাকে সহায় করে এ লড়াই করতে পারব না। কেননা তারই সঙ্গে আমাদের প্রধান লড়াই, তাকে তাড়াতে পারলে তৰেই আমরা অস্তরে বাহিরে স্বরাজ পাব । বাপড় পোড়াতে আমি রাজি আছি, কিন্তু কোনো উক্তির তাড়নায় নয়। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির যথেষ্ট সময় নিয়ে যথোচিত উপায়ে প্রমাণ ૨ છે ૨