পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান সংগ্রহ করুন এবং স্বযুক্তি দ্বারা আমাদের বুঝিয়ে দিন যে, কাপড় পরা সম্বন্ধে আমাদের দেশ অর্থনৈতিক যে অপরাধ করেছে অর্থনৈতিক কোন ব্যবস্থার দ্বারা তার প্রতিকার হতে পারে। বিনা প্রমাণে ৰিন যুক্তিতে কেমন করে নিশ্চিত বলব যে, বিশেষ একটা কাপড় প’রে আমরা আর্থিক যে অপরাধ করেছি কাপড়টাকে পুড়িয়ে সেই অপরাধের মূলটাকে আরো বিস্তারিত করে দিচ্ছি নে, ম্যাঞ্চেস্টারের র্কাস তাতে পরিণামে ও পরিমাণে আরো কঠিন হয়ে উঠবে না ? এ তর্ক আমি বিশেষজ্ঞভাবে উত্থাপিত করছি নে, কেননা আমি বিশেষজ্ঞ নই, আমি জিজ্ঞামুভাবেই করছি। বিশেষজ্ঞ যা বলেন তাই যে বেদবাক্য আমি তা বলি নে । কিন্তু সুবিধা এই যে, বেদবাক্যের ছন্দে তারা কথা বলেন না । প্রকাশু সভায় তারা আমাদের বুদ্ধিকে আহবান করেন । একটি কথা আমাদের মনে ভাববার দিন এসেছে, সে হচ্ছে এই— ভারতের আজকের এই উদবোধন সমস্ত পৃথিবীর উদবোধনের অঙ্গ । একটি মহাযুদ্ধের তুর্ষধ্বনিতে আজ যুগারম্ভের দ্বার খুলেছে। মহাভারতে পড়েছি, আত্মপ্রকাশের পূর্ববতী কাল হচ্ছে অজ্ঞাতবাসের কাল। কিছু কাল থেকে পৃথিবীতে মানুষ যে পরস্পর কিরকম ঘনিষ্ঠ হয়ে এসেছে সে কথাটা স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অজ্ঞাত ছিল । অর্থাৎ, ঘটনাটা বাইরে ছিল, আমাদের মনে প্রবেশ করে নি। যুদ্ধের আঘাতে এক মুহূর্তে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ যখন বিচলিত হয়ে উঠল, তখন এই কথাটা আর লুকোনো রইল না । হঠাৎ এক দিনে আধুনিক সভ্যতা অর্থাৎ পাশ্চাত্য সভ্যতার ভিত কেঁপে উঠল। বোঝা গেল, এই কেঁপে ওঠার কারণটা স্থানিক নয় এবং ক্ষণিক নয়— এর কারণ সমস্ত পুথিবী জুড়ে। মানুষের সঙ্গে মানুষের যে সম্বন্ধ এক মহাদেশ থেকে আর-এক মহাদেশে ব্যাপ্ত, তার মধ্যে সত্যের সামঞ্জস্ত যত ক্ষণ না ঘটবে তত ক্ষণ এই কারণের নিবৃত্তি হবে না। এখন থেকে যে-কোনো জাত নিজের ર છે૭