পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর দেশকে একান্ত স্বতন্ত্ৰ ক’রে দেখবে, বর্তমান যুগের সঙ্গে তার বিরোধ ঘটবে, সে কিছুতেই শাস্তি পাবে না। এখন থেকে প্রত্যেক দেশকে নিজের জন্তে যে চিস্তা করতে হবে তার সে চিস্তার ক্ষেত্র হবে জগৎজোড়া। চিত্তের এই বিশ্বমুখী বৃত্তির চর্চা করাই বর্তমান যুগের শিক্ষার সাধনা। কিছু দিন থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভারতরাষ্ট্রশাসনে একটা মূলনীতির পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মূলে আছে ভারতরাষ্ট্রসমস্তাকে বিশ্বসমস্তার অন্তর্গত করে দেখবার চেষ্টা । যুদ্ধ আমাদের মনের সামনে থেকে একটা পর্দা ছিড়ে দিয়েছে — যা বিশ্বের স্বার্থ নয় তা যে আমাদের নিজের স্বার্থের বিরোধী এই কথাকে মানুষ, পুথির পাতায় নয়, ব্যবহারের ক্ষেত্রে আজ দেখতে পাচ্ছে ; এবং সে বুঝছে, যেখানে অন্তায় আছে সেখানে বাহ অধিকার থাকলেও সত্য অধিকার থাকে না । বাহ অধিকারকে খর্ব ক'রেও যদি সত্য অধিকার পাওয়া যায় তবে সেটাতে লাভ ছাড়া লোকসান নেই। মানুষের মধ্যে এই-যে একটা বুদ্ধির বিরাট পরিবর্তন ঘটছে, তার চিত্ত সংকীর্ণ থেকে ভূমার দিকে যাচ্ছে, তারই হাত এই ভারতরাষ্ট্রনীতি-পরিবর্তনের মধ্যে কাজ করতে আরম্ভ করেছে। এর মধ্যে যথেষ্ট অসম্পূর্ণতা ও প্রভূত বাধা আছে– স্বার্থকুদ্ধি শুভবুদ্ধিকে পদে পদে আক্রমণ করবেই – তাই ব’লে এ কথা মনে করা অন্যায় যে, এই শুভবুদ্ধিই সম্পূর্ণ কপটতা এবং স্বাৰ্থবৃদ্ধিই সম্পূর্ণ অকৃত্রিম । আমার এই বাট বৎসরের অভিজ্ঞতায় একটি কথা জেনেছি যে, কপটতার মতে দুঃসাধ্য অতএব স্থলভ জিনিস আর নেই । খাটি কপট মানুষ হচ্ছে ক্ষণeন্মা লোক, অতি অকস্মাৎ তার আবির্ভাব ঘটে । আসল কথা, সকল মামুষের মধ্যেই কম বেশি পরিমাণে চারিত্র্যের দ্বৈধ আছে । আমাদের বুদ্ধির মধ্যে লজিকের যে কল পাতা তাতে দুই বিরোধী পদার্থকে ধরানো কঠিন ব'লেই ভালোর সঙ্গে যখন মঙ্গকে দেখি তখন তাড়াতাড়ি ঠিক করে নিই, এর মধ্যে ૨ છે 8