পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যের আহবান ভালোটাই চাতুরি। আজকের দিনে পৃথিবীতে সর্বজনীন যে-সকল প্রচেষ্টা চলছে তার মধ্যে পদে পদে মামুষের এই চারিত্র্যের দ্বৈধ দেখা যাবে। সে অবস্থায় তাকে যদি তার অতীতযুগের দিক থেকে বিচার করি তা হলে তার স্বাৰ্থ বুদ্ধিকে মনে করব খাটি ; কারণ, তার অতীতের নীতি ছিল ভেদবুদ্ধির নীতি। কিন্তু তাকে যদি আমাদের আগামীকালের দিক থেকে বিচার করি তা হলে বুঝব শুভবুদ্ধিটাই খাটি। কেননা ভাবী যুগের একটা প্রেরণা এসেছে মামুষকে সংযুক্ত করবার জন্তে । যে বুদ্ধি সকলকে সংযুক্ত করে সেই হচ্ছে শুভবুদ্ধি। এই-বে লীগ অফ নেশনস -প্রতিষ্ঠা বা ভারতশাসনসংস্কার, এ-সব হচ্ছে ভাৰী যুগ সম্বন্ধে পশ্চিমদেশের বাণী । এ বাণী সত্যকে যদি বা সম্পূর্ণ প্রকাশ না করে এর চেষ্ট হচ্ছে সেই সত্যের অভিমুখে । আজ এই বিশ্বচিত্ত-উদবোধনের প্রভাতে আমাদের দেশে জাতীয় কোনো প্রচেষ্টার মধ্যে যদি বিশ্বের সর্বজনীন কোনো বাণী না থাকে তা হলে তাতে আমাদের দীনতা প্রকাশ করবে। আমি বলছি নে, আমাদের আগু প্রয়োজনের যা-কিছু কাজ আছে তা আমরা ছেড়ে দেব। সকালবেলায় পাখি যখন জাগে তখন কেবলমাত্র আহার-অন্বেষণে তার সমস্ত জাগরণ নিযুক্ত থাকে না, আকাশের আহবানে তার স্থই অক্লান্ত পাখা সায় দেয় এবং আলোকের আনন্দে তার কণ্ঠে গান জেগে ওঠে। আজ সর্বমানবের চিত্ত আমাদের চিত্তে তার ডাক পাঠিয়েছে ; আমাদের চিত্ত আমাদের ভাষায় তার সাড়া দিক, কেননা ডাকের যোগ্য সাড়া । দেওয়ার ক্ষমতাই হচ্ছে প্রাণশক্তির লক্ষণ। একদা যখন পরমুখাপেক্ষী পলিটিক্সে সংসঙ্ক ছিলুম, তখন আমরা কেবলই পরের অপরাধের তালিকা আউড়ে পরকে তার কর্তব্যক্রটি স্মরণ করিয়েছি ; আজ যখন আমরা পরপরায়ণতা থেকে আমাদের পলিটিক্স কে ছিন্ন করতে চাই, আজও সেই পরের অপরাধ-জপের দ্বারাই আমাদের বর্জননীতির 》《: