পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্যা যে ছাত্রেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা-পরীক্ষায় বলে তাদের সংখ্যা দশ-বিশ হাজার হয়ে থাকে, কিন্তু তাদের সকলেরই পক্ষে একই প্রশ্ন, এক কালীতে একই অক্ষরে ছাপানো । সেই একই প্রশ্নের একই সত্য উত্তর দিতে পারলে তবে ছাত্রেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হয়ে পদবী পায়। এইজন্তে পার্শ্ববর্তী পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তর চুরি করেও কাজ চলে। কিন্তু বিধাতার পরীক্ষার নিয়ম এত সহজ নয়। একএক জাতির কাছে তিনি এক-একটি স্বতন্ত্র সমস্ত পাঠিয়েছেন। সেই সমস্তার সত্য মীমাংসা তারা নিজে উদ্ভাবন করলে তবেই তারা তার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পাবে ও মান পাবে। ভারতকেও তিনি একটি বিশেষ সমস্ত দিয়েছেন, যতদিন না তার সত্য মীমাংসা হবে তত দিন ভারতের দুঃখ কিছুতেই শাস্ত হবে না। আমরা চাতুরি খাটিয়ে যুরোপের পরীক্ষাপত্র থেকে উত্তর চুরি করছি। এক দিন বোকার মতো করছিলুম মাছি-মারা নকল, আজকে বুদ্ধিমানের মতো করছি ভাষার কিছু বদল ঘটিয়ে। পরীক্ষক বারে বারে তার পাশে নীল পেন্সিল দিয়ে যে গোল গোল চিহ্ন কাটছেন তার সব-কটাকেও একত্র যোগ করতে গেলে বিয়োগাস্ত হয়ে ওঠে। বায়ুমণ্ডলে ঝড় জিনিসটাকে আমরা দুর্যোগ বলেই জানি । সে যেন রাগী আকাশটার কিল চড় লাৰি ঘুষোর আকারে আসতে থাকে। এই প্রহারটা তো হল একটা লক্ষণ। কিসের লক্ষণ ? আসল কথা, যে বায়ুস্তরগুলো পাশাপাশি আছে, যে প্রতিবেশীদের মধ্যে মিল থাকা উচিত ছিল, তাদের মধ্যে ভেদ ঘটেছে । এক অংশের বড়ো বেশি গৌরব, আর-এক অংশের বড়ো বেশি লাঘৰ হয়েছে। এ তো সহ হয় না, তাই ইজদেবের বজ্ৰ গড়গড়, করে ওঠে, পবনদেবের ૨ છેor