পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্যা ভে পু হু-হু করে হুংকার দিতে থাকে। যত ক্ষণ প্রতিবেশীদের মধ্যে সাম্যসাধন না হয়, হাওয়ায় হাওয়ায় পঙক্তিভেদ ঘুচে না যায়, তত ক্ষণ শাস্তি হয় না, তত ক্ষণ দেবতার রাগ মেটে না । যাদের মধ্যে পরস্পর মিলে চলবার সম্বন্ধ, তাদের মধ্যে ভেদ ঘটলেই তুমুল কাও বেধে যায়। তখন ঐ-যে অরণ্যটার গাম্ভীর্য নষ্ট হয়ে যায়, ঐ-যে সমুদ্রট পাগলামি করতে থাকে, তাদের দোষ দিয়ে বা তাদের কাছে শান্তিশতক অাউড়িয়ে কোনো ফল নেই । কান পেতে শুনে নাও, স্বর্গে মর্তে এই রব উঠল “ভেদ ঘটেছে, ভেদ ঘটেছে । এই হাওয়ার মধ্যে যে কথা, মামুষের মধ্যেও তাই । বাইরে থেকে যারা কাছাকাছি, ভিতরের থেকে তাদের যদি ভেদ ঘটল, তা হলে ঐ ভেদটাই হল মূল বিপদ। যত ক্ষণ সেটা আছে তত ক্ষণ ইন্দ্রদেবের বজ্ৰকে, উনপঞ্চাশ পবনের চপেটাঘাতকে, বৈধ বা অবৈধ আন্দোলনের দ্বারা দমন করবার চেষ্টা ক’রে ঝড়ের আন্দোলন কিছুতেই থামানে যায় না । আমরা যখন বলি স্বাধীনতা চাই, তখন কী চাই সেটা ভেবে দেখা চাই। মানুষ যেখানে সম্পূর্ণ একলা সেইখানে সে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেখানে তার কারও সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ নেই, কারও কাছে কোনো দায়িত্ব নেই, কারও প্রতি কোনো নির্ভর নেই, সেখানে তার স্বাতন্ত্র্যে লেশমাত্র হস্তক্ষেপ করবার কোনো মানুষই নেই। কিন্তু মানুষ এ স্বাধীনতা কেবল যে চায় না তা নয়, পেলে বিষম দুঃখ বোধ করে । রবিনসন ক্রুসো তার জনহীন দ্বীপে যতখন একেবারে একলা ছিল ততখন সে একেবারে স্বাধীন ছিল। যখনই ফ্রাইডে এল তখনই তার সেই একাস্ত স্বাধীনতা চলে গেল। তখন ফ্রাইভের সঙ্গে তার একটা পরম্পর-সম্বন্ধ বেধে গেল । সম্বন্ধ মাত্রেই অধীনতা । এমন কি প্রভূভূত্যের সম্বন্ধে প্রভূও ভূত্যের অধীন। কিন্তু রবিনসন ক্রুসো ফ্রাইডের ૨ છે જે