পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


கேத সমস্তা থেকে মুক্তিলাভ করে সমস্তার সমাধান করেছে। তা হলে দেখা যাচ্ছে, ভেদের দুঃখ থেকে, ভেদের অকল্যাণ থেকে মুক্তিই হচ্ছে মুক্তি। এমন কি, আমাদের দেশের ধর্মসাধনার মূল কথাট হচ্ছে ঐ ; তাতে বলে, ভেদবুদ্ধিতেই অসত্য, সেই ভেদবুদ্ধি ঘুচিয়ে দিলেই সত্যের মধ্যে আমাদের পরিত্রাণ । কিন্তু পূর্বেই বলেছি, বিধাতার পরীক্ষাশালায় সব পরীক্ষার্থীর একই প্রশ্ন নয় ; ভেদ এক রকম নয় । এক পায়ে খড়ম, আর-এক পায়ে বুট, সে এক রকমের ভেদ ; এক পা বড়ো, আর-এক পী ছোটো, সে আরএক রকমের ভেদ ; পায়ের হাড় ভেঙে গিয়ে পায়ের এক অংশের সঙ্গে অন্ত অংশের বিচ্ছেদ, সে অন্ত রকমের ভেদ– এই সব রকম ভেদই স্বাধীনশক্তিযোগে চলাফেরা করায় বাধা দেয় । কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ভেদের প্রতিকার ভিন্ন রকমের । খড়ম-পায়ের কাছ থেকে তার প্রশ্নের উত্তর চুরি করে নিয়ে ভাঙা-পা নিজের ব’লে চালাতে গেলে তার বিপদ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। ঐ-যে পূর্বেই বলেছি, একদা ইংরেজ জাতের মধ্যে ভেদের যে ছিন্নতা ছিল সেটাকে একটা রাষ্ট্রনৈতিক শেলাইয়ের কল দিয়ে তারা পাকা করে জুড়েছে। কিন্তু যেখানে কাপড়টা তৈরিই হয় নি, স্বতোগুলো কতক আলাদা হয়ে কতক জটা পাকিয়ে পড়ে আছে, সেখানে রাষ্ট্রনৈতিক শেলাইয়ের কলের কথা ভাবাই চলে না ; সেখানে আরো গোড়ায় যেতে হয়, সেখানে সমাজনৈতিক তাতে চড়িয়ে বহু স্বতোকে এক অথও কাপড়ে পরিণত করা চাই । তাতে বিলম্ব হবে, কিন্তু শেলাইয়ের কলে কিছুতেই বিলম্ব সারা যায় না । শিবঠাকুরের তিনটি বধূ সম্বন্ধে ছড়ায় বলছে— এক কন্তে রাখেন বাড়েন, এক কন্তে খান, এক কন্তে না পেয়ে ৰাপের বাড়ি যান। २२ ०