পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর তিন কম্ভেরই আহারের সমান প্রয়োজন ছিল কিন্তু দ্বিতীয় কম্ভেটি যে সহজ উপায়ে আহার করেছিলেন, বিশেষ কারণে তৃতীয় কন্তের সেটা আয়ত্তাধীন ছিল না ; অতএব উদর এবং আহার -সমস্তার পূরণ তিনি অপেক্ষাকৃত বিলম্বিত উপায়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন – বাপের বাড়ি ছুটেছিলেন। প্রথম কন্সের ক্ষুধানিবৃত্তি সম্বন্ধে পুরাবৃত্তের বিবরণটি অস্পষ্ট । আমার বিশ্বাস, তিনি আয়োজন মাত্র করেছিলেন, আর মধ্যমাটি তার ফলভোগ করে পরিতৃপ্ত হয়েছেন। ইতিহাসে এ রকম দৃষ্টান্ত বিরল নয়। " আমাদের এই জন্মভূমিটি শিবঠাকুরের মধ্যম প্রেয়গী নন, সে কথা ধরে নেওয়া যেতে পারে । বহু শতাব্দী ধ’রে বার বার তার পরিচয় পাওয়া গেল । কাজেই লক্ষ্যসিদ্ধি সম্বন্ধে মধ্যমার পথটি তার পথ হতেই পারে না । হয় তিনি রাধেন লি অথচ ভোজের দাবি করেছেন, শেষে শিবঠাকুরের ধমক খেয়ে সনাতন বাপের বাড়ির দিকে চলতে চলতে বেলা বইয়ে দিয়েছেন ; নয়তে রেধেছেন, বেড়েছেন, কিন্তু খাবার বেলায় দেখেছেন আর-একজন পাত শূন্ত করে দিয়েছে। অতএব তার পক্ষে সমস্ত হচ্ছে, যে কারণে এমনটা ঘটে আর যে কারণে তিনি কথায় কথায় শিবঠাকুরকে চটিয়ে তোলেন, সেট। সর্বাগ্রে দূর করে দেওয়া ; আবদার করে বললেই হবে না যে ‘মেজবউ যেমন করে খাচ্ছে আমিও ঠিক তেমনি করে খাব’ । আমরা সর্বদাই বলে থাকি, বিদেশী আমাদের রাজা, এই দুঃখ ঘুচলেই আমাদের সব দুঃখ বুচবে। বিদেশী রাজা আমি পছন্দ করি নে। পেট-জোড়া পিলেও আমার পছন্দলষ্ট নয়। কিন্তু অনেক দিন থেকে দেখছি, পিলেটি আমার সম্মতির অপেক্ষা না করে আপনি এসে পেট জুড়ে বসেছে। বহু যত্নে অন্তরের প্রকোষ্ঠে তাকে পালন করলেও বিপদ, আবার রাগের মাথায় ঘুষি মেরে তাকে ফাটিয়ে দিলেও ૨૨ 8