পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্যা সাংঘাতিক হয়ে ওঠে। ধারা অভিজ্ঞ তারা বলেন, “তোমাদের আশেপাশে চার দিকেই ম্যালেরিয়াবাহিনী ভোবা, সেইগুলো ভরাট না করলে তোমার পিলের ভরাট ছুটবে না। মুশকিলের ব্যাপার এই ষে, পিলের উপরেই আমাদের যত রাগ, ডোবার উপরে নয় । আমরা বলি, আমাদের সনাতন ডোবা, ওগুলি যদি লুপ্ত হয় তা হলে ভূতকালের পবিত্র পদচিহ্নের গভীরতাই লোপ পাবে। সেই গভীরতা বর্তমানের অবিরল অশ্রধারায় কানায় কানায় পূর্ণ হয় হোক, কিন্তু আমাদের লোকালয় চিরদিন যেন ডোবায় ডোবায় শতধা হয়ে থাকে। পাঠকেরা অধৈর্য হয়ে বলবেন, আর ভূমিকা নয়, এখন আমাদের বিশেষ সমস্তাটা কী ব’লেই ফেলো।’ বলতে সংকোচ হচ্ছে ; কাৰণ কথাটা অত্যন্ত বেশি সহজ । শুনে সবাই অশ্রদ্ধা করে বলবেন, ও তে। সবাই জানে। এইজন্তেই রোগের পরিচয় সম্বন্ধে ভাক্তারবাৰু অনিদ্র। না ব'লে যদি ইনসম্নিয়া বলেন, তা হলে মনে হয় তাকে ষোলো টাকা ফি দেওয়া ষোলো-আনা সার্থক হল । আসল কথা, আমরা এক নই, আমাদের নিজেদের মধ্যে ভেদের অন্ত নেই। প্রথমেই বলেছি, ভেদটাই দুঃখ, ঐটেই পাপ । সে ভেদ বিদেশীর সঙ্গেই হোক আর স্বদেশীর সঙ্গেই হোক। সামজটাকে একটা ভেদবিহীন বৃহৎ দেহের মতো ব্যবহার করতে পারি কখন ? যখন তার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে বোধশক্তি ও কর্মশক্তির প্রাণগত যোগ থাকে : যখন তার প{ কাজ করলে হাত তার ফল পায়, হাত কাজ করলে পা তার ফল পায় । কল্পনা করা যাক, স্থষ্টিকর্তার হুষ্টিছাড়া ভুলে দেহের আকৃতিধারী এমন একটা অপদাৰ্থ তৈরি হয়েছে যার প্রত্যেক বিভাগের চার দিকে নিষেধের বেড়া ; যার ডান চোখে বা চোখে, ডান হাতে বা হাতে ভাস্কর-ভাজবৌয়ের সম্পর্ক ; বার পায়ের শিরার রক্ত বুকের কাছে উঠতে গেলেই দাবড়ানি খেয়ে ফিরে যায় ; বার তর্জনীটা কড়ে-আঙুলের > & २३ &