পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর সঙ্গে এক পঙক্তিতে কাজ করতে গেলে প্রায়শ্চিভের দায়িক হয় বার পায়ে তেল-মালিশের দরকার হলে ভান হাত হরতাল করে বলে। এই অত্যন্ত নড়বড়ে পদার্থটা অন্ত পাড়ার দেহটার মতো সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পায় না। সে দেখে, অন্ত দেহটা জুতো জামা পরে লাঠি ছাতা নিয়ে পথে অপথে বুক ফুলিয়ে বেড়ায়। তখন সে ভাবে যে, "ঐ দেহটার মতো জুতো জামা লাঠি ছাত জুটলেই আমার সব দুঃখ যুচৰে । কিন্তু হুষ্টিকর্তার ভুলের পরে নিজের ভুল যোগ ক’রে দিয়ে সংশোধন চলে না। জুতো পেলেও তার জুতো খসে পড়বে, ছাতি পেলেও তার ছাতি হাওয়ায় দেবে উড়িয়ে, আর মনের মতো লাঠি যদি সে কোনোমতে জোগাড় করতে পারে অন্ত পাড়ার দেহটি সে লাঠি ছিনিয়ে নিয়ে তার নড়বড়ে জীবলীলার প্রহসনটাকে হয়তো ট্র্যাজেডিতে সমাপ্ত করে দিতে পারে। এখানে জুতো জামা ছাতি লাঠির অভাবটাই সমস্ত নয়, প্রাণগত ঐক্যের অভাবটাই সমস্তা। কিন্তু বিধাতার উক্ত দেহরূপী বিন্দ্রপটি হয়তো ব’লে থাকে যে, 'অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনৈক্যের কথাটা এখন চাপা থাক, আপাতত সবার আগে যদি কোনো গতিকে একটা জামা জোগাড় করে নিয়ে সর্বাঙ্গ ঢাকতে পারি তা হলে সেই জামাটার ঐক্যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ঐক্য আপনা-আপনি ঘটে উঠবে ।’ আপনিই ঘটবে, এ কথা বলা হচ্ছে নিজেকে ফাকি দেওয়া । এই ফাকি সর্বনেশে ; কেননা, নিজকৃত ফাকিকে মানুষ ভালোবাসে, তাকে যাচাই ক’রে দেখতেই প্রবৃত্তি হয় না । o মনে আছে, আমার বয়স যখন অল্প ছিল তখন দেশে দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে একটা তর্ক প্রায় শোনা যেত, আমরা কি নেশন না নেশন নই। কথাটা সম্পূর্ণ বুঝতুম তা বলতে পারি নে, কিন্তু আমরা নেশন নই এ কথা ষে মানুষ বলত রাজা হলে তাকে জেলে দিতুম, সমাজপতি হলে তার ধোবা নাপিত বন্ধ করতুম। তার প্রতি অহিংস্ৰতাৰ বৃক্ষ २३७