পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর পাড়ছি, যেন তারা কণ্ঠস্বরে ঝড়ের গর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কাটল-মেরামতের কথাট। একেবারে চাপা না দেন । কাপ্তেনরী বলেন, ‘সে দিকে যে আমাদের লক্ষ্য আছে তার একটা প্রমাণ দেখো যে, যদিও আমরা সনাতনপন্থী তবু আমরা স্পর্শদোষ সম্বন্ধে দেশের লোকের সংস্কার দূর করতে চাই । আমি বলি, এছ বাহ। স্পর্শদোষ তো আমাদের ভেদবুদ্ধির একটিমাত্র বাহ লক্ষণ । যে সনাতন ভেদবুদ্ধির বনস্পতি আমাদের পথরোধ করে দাড়িয়ে আছে তার থেকে একটি কাঠি ভেঙে নিলেই তো পথ খোলসা হবে না । আমি পূর্বে অন্যত্র বলেছি, ধর্ম যাদের পৃথক করে তাদের মেলবার দরজায় ভিতর দিক থেকে আগল দেওয়া । কৰাট পরিষ্কার করে বলবার চেষ্টা করি। সকলেই বলে থাকে, ধর্মশব্দের মূল অর্থ হচ্ছে যা আমাদের ধারণ করে। অর্থাৎ, আমাদের যে-সকল আশ্রয় ধ্রুব তারা হচ্ছে ধর্মের অধিকারভূক্ত। তাদের সম্বন্ধে তর্ক নেই। এই-সকল আশ্রয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটে না । এদের সঙ্গে ব্যবহারে যদি চঞ্চলত করি, কথায় কথায় যদি মত বদল ও পথ বদল করতে থাকি, তা হলে বাচি নে । কিন্তু সংসারের এমন একটা বিভাগ আছে যেখানে পরিবর্তন চলছে, যেখানে আকস্মিকের আনাগোনার অস্ত নেই ; সেখানে নূতন নূতন অবস্থার সম্বন্ধে নূতন করে বারে বারে আপোষ-নিম্পত্তি না করলে আমরা বঁচি নে । এই নিত্যপরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধ্রুবকে অধ্রুবের জায়গায়, অধ্রুবকে ধ্রুৰের জায়গায় বসাতে গেলে বিপদ ঘটবেই । যে মাটির মধ্যে গাছ শিকড় চালিয়ে দাড়িয়ে থাকে শিকড়ের পক্ষে সেই ধ্রুব মাটি খুব ভালো, কিন্তু তাই ব’লে ডালপালাগুলোকেও মাটির মধ্যে পুতে ফেলা কল্যাণকর নয়। পৃথিবী নিত্য আমাকে ধারণ করে ; পৃথিবী ধর্মের মতো ধ্রুব হলেই আমার পক্ষে ভালো, তার নড়চড় হতে থাকলেই & Oe