পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর নিয়েছে। প্রকৃত বাস্তৰ যে সে বাস্তবের নিয়মে সংযত ? যদি বা সে বাড়িভাড়া নাও কবুল করে, অন্তত সরকারি ট্যাক্সো দিয়ে থাকে। অবাস্তবকে বাস্তব বলে মানলে তাকে জ্ঞানের কোনো নিয়মে পাওয়া বায় না । সেইজন্তে কেবল বুক ছবছর করে, গা ছমছম করে, আর বিনা বিচারে মেনেই চলি। যদি কেউ প্রশ্ন করে 'কেন', জবাব দিতে পারি নে ; কেবল পিঠের দিকে বুড়ো আঙুলটা দেখিয়ে দিয়ে বলি, “ঐ যে ” তার পরেও যদি বলে ‘কই যে", তাকে নাস্তিক বলে তাড়া করে যাই । মনে ভাবি, গোয়ারটা বিপদ ঘটালে বুঝি— ভূতকে অবিশ্বাস করলে যদি সে ঘাড় মটকে দেয় । তবুও যদি প্রশ্ন ওঠে 'কেন' তা হলে উত্তরে বলি, ‘আর যেখানেই কেন খাটাও এখানে কেন খাটাতে এসে না বাপু, মানে মানে বিদায় হও— মরবার পরে তোমাকে পোড়াবে কে সে ভাবনাটা ভেবে রেখে দিয়ো ।” চিত্তরাজ্যে যেখানে বুদ্ধিকে মানি সেখানে আমার স্বরাজ ; সেখানে আমি নিজেকে মানি, অথচ সেই মানার মধ্যে সর্বদেশের ও চিরকালের মানবচিত্তকে মানা আছে। অবুদ্ধিকে যেখানে মানি সেখানে এমন একটা স্থষ্টিছাড়া শাসনকে মানি যা না অামার, না সর্বমানবের । সুতরাং সে একটা কারাগার, সেখানে কেবল আমার মতো হাত-পা-বাধা এক কারায় অবরুদ্ধ অকালজরাগ্রস্তদের সঙ্গেই আমার মিল আছে, বাইরের কোটি কোটি স্বাধীন লোকদের সঙ্গে কোনো মিল নেই। বৃহতের সঙ্গে এই ভেদ থাকাটাই হচ্ছে বন্ধন। কেননা পূর্বেই বলেছি, ভেদটাই সকল দিক থেকে আমাদের মূল বিপদ ও চরম অমঙ্গল। অবুদ্ধি হচ্ছে ভেদবুদ্ধি, কেননা চিত্তরাজ্যে সে আমাদের সকল মানবের থেকে পৃথক করে দেয়, আমরা একটা অস্তুতের খাচায় বসে কয়েকটা শেখানে বুলি আবৃত্তি করে দিন কাটাই । জীবনযাত্রায় পদে পদেই অবুদ্ধিকে মানা যাদের চিরকালের অভ্যাস, & Θ&